কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী ইউনিয়নের ছোটখাল এলাকায় গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে নির্গত গ্যাসের সঙ্গে এবার তেলও বেরিয়ে আসার তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।
টানা কয়েকদিন ধরে জ্বলতে থাকা আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আরও পর্যবেক্ষণের জন্য অন্তত ১৫ দিন সময় লাগতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বাপেক্সের পরিচালক (অপারেশন) মোহাম্মদ শরীফ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, গ্যাসের সঙ্গে তরল হাইড্রোকার্বন বা তেলের উপস্থিতিও রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে বলা যাবে।’
বাপেক্সের পরিচালক আরও জানান, ভূগর্ভস্থ গ্যাসের স্তর প্রায় ২ থেকে ৫ কিলোমিটার বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে আগুন দ্রুত নিভিয়ে ফেলার চেষ্টা না করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শরীফ বলেন, ‘আগুন নেভানোর আগে গ্যাসের চাপ, প্রবাহ এবং নিরাপত্তাজনিত বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাড়াহুড়া করে আগুন নিভিয়ে দিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ চলছে এবং পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও প্রায় ১৫ দিন সময় লাগতে পারে।’
গত মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে ইনানীর ছোটখাল এলাকার মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বাড়িতে গভীর নলকূপ খননের সময় হঠাৎ ভূগর্ভ থেকে প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বের হতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে আগুন ধরে যায়। এরপর থেকে টানা জ্বলছে আগুন।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে থাকায় পরিবেশ ও জননিরাপত্তার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে বাপেক্স বলছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষাগারের ফলাফলে যদি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেলের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়, তাহলে ইনানী এলাকার ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে বিস্তৃত অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।