ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় মানিক মিয়া হত্যা মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার অপর ছয় আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক অসীম কুমার দে এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, কসবা উপজেলার নিমবাড়ী এলাকার মোতাহার মিয়া এবং তার দুই ছেলে মনির মিয়া ও কামাল মিয়া। রায় ঘোষণার সময় কামাল মিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়। অপর দুই আসামি মনির মিয়া ও মোতাহার মিয়া পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
খালাস পাওয়া ছয় আসামি হলেন নবীর হোসেন, রুবেল মিয়া, শরীফ মিয়া, মনোয়ারা বেগম (মিনু), জিয়াছমিন ও খাদিজা বেগম। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত খালাসের আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রাত আটটার দিকে কসবা উপজেলার তন্তর বাজারে মুদি দোকানের ব্যবসা শেষে বাড়ি ফেরেন মানিক মিয়া। বাড়িতে ভাত খাওয়ার সময় তার চাচি মাহমুদা বেগম জরুরি কাজের কথা বলে তাকে তাদের বাড়িতে যেতে বলেন। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে চাচা মোতাহার মিয়ার বাড়িতে গেলে পূর্ববিরোধের জেরে চাচা ও চাচাতো ভাইসহ আসামিরা তার ওপর হামলা চালান। হামলায় মানিকের মাথা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। পরে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পরদিন ১১ অক্টোবর নিহতের স্ত্রী হেলেনা আক্তার ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কসবা থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত বুধবার এ রায় দেন।
মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী ফখর উদ্দিন আহমেদ খান ও অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) নজির আহম্মদ। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সারওয়ার-ই-আলম ও মফিজুর রহমান (বাবুল)।
উভয় পক্ষের আইনজীবীরা জানান, এ রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে রায়টি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।