অধিকাংশ সাহাবায়ে কেরাম ও ফকিহদের (ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ) মত হলো, উটের মাংস খেলে অজু ভাঙে না। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেয়ী (রহ.) এর মতও এটিই।
অবশ্য একটি হাদিসে উটের মাংস খাওয়ার পর অজু করার কথা বলা হয়েছে। সেখানে ‘অজু’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, শাব্দিক অর্থের অজু; পারিভাষিক অর্থের নয়, অর্থাৎ এই অজুর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, ধৌত করা। মানে খাওয়ার পর মুখ ও হাত ধোয়া।
কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, উটের মাংসে কিছুটা তেলতেলে ভাব ও এক ধরনের গন্ধ থাকে। এ জন্য তা খাওয়ার পর হাত-মুখ ধৌত করা উচিত।
অন্যদিকে হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) এর শেষ জীবনের আমল ছিল রান্না করা খাবার খাওয়ার পর অজু না করা। আর রান্না করা খাবারের মধ্যে উটের মাংসও অন্তর্ভুক্ত। তাই এটি খাওয়ার দ্বারা অজু ভাঙবে না।
সুতরাং এ থেকে বোঝা যায়, উটের মাংস খেয়ে অজু করার যে বর্ণনা রয়েছে, তা হয়তো অজু শব্দের শাব্দিক অর্থ (হাত-মুখ ধোয়া) নির্দেশ করে, অথবা জাবির (রা.) এর হাদিস অনুযায়ী অজু ভাঙার হাদিসটি মানসুখ (রহিত) হয়ে গেছে। কারণ, সেখানে রাসুল (সা.) এর শেষ জীবনের আমল বর্ণিত হয়েছে।
কেননা, একই বিষয় যদি রাসুল (সা.) থেকে দুভাবে প্রকাশ পায়, তাহলে তার শেষ জীবনের আমলটি গ্রহণ করতে হয়।
তথ্যসূত্র: দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া নম্বর: ১৭৩২৫২ ও জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া আল্লামা ইউসুফ বানুরির ফতোয়া নম্বর: ১৪৪১১২২০০৯৪৭