ঢাকাThursday , 25 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডিহাইড্রেশন ঠেকাতে শুধু পানি নয়, প্রয়োজন ইলেকট্রোলাইটও

Tariqul Islam
June 25, 2026 8:40 am
Link Copied!


প্রচণ্ড গরম, অতিরিক্ত ঘাম, ডায়রিয়া কিংবা দীর্ঘ সময় শারীরিক পরিশ্রমের ফলে শরীর থেকে শুধু পানি নয়, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম) উপাদানও বেরিয়ে যায়। এসব খনিজ ইলেকট্রোলাইট নামে পরিচিত। শরীরের তরলের ভারসাম্য রক্ষা, স্নায়ুর কার্যক্রম পরিচালনা, পেশীর সংকোচন এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইলেকট্রোলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় পান করলে পানিশূন্যতা প্রতিরোধ, শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা এবং সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সহজ হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিশূন্যতা দেখা দিলে শুধু পানি পান করাই যথেষ্ট নয়; শরীরের হারিয়ে যাওয়া ইলেকট্রোলাইটও পূরণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে কিছু প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিকভাবে স্বীকৃত পানীয় দ্রুত শরীরকে আর্দ্র করতে এবং শক্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে।

এখানে ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ কিছু পানীয় দেওয়া হলো:

১. ডাবের পানি: প্রকৃতির তৈরি প্রাকৃতিক রিহাইড্রেশন ড্রিংক

ডাবের পানি পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়ামের একটি চমৎকার প্রাকৃতিক উৎস। এতে কৃত্রিম রং, ফ্লেভার বা সংরক্ষণকারী উপাদান থাকে না এবং চিনির পরিমাণও তুলনামূলক কম।

ডাবের পানির উপকারিতা—

  • পটাশিয়াম পেশীর কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখে।
  • সোডিয়াম শরীরে তরল ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম স্নায়ু ও পেশীর কার্যক্রম সচল রাখে।

হালকা থেকে মাঝারি পানিশূন্যতা দূর করতে ডাবের পানি কার্যকর হলেও গুরুতর ডিহাইড্রেশনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র এটি যথেষ্ট নাও হতে পারে।

২. ওআরএস: চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বীকৃত সবচেয়ে কার্যকর সমাধান

ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন (ওআরএস) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কর্তৃক ডায়রিয়া, বমি বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে সৃষ্ট পানিশূন্যতা মোকাবিলায় সুপারিশকৃত একটি দ্রবণ।

ওআরএসে নির্দিষ্ট অনুপাতে গ্লুকোজ ও লবণ থাকে, যা অন্ত্রের মাধ্যমে পানি ও ইলেকট্রোলাইট দ্রুত শোষণে সহায়তা করে।

এর প্রধান সুবিধা—

  • দ্রুত শরীরে তরল সরবরাহ করে।
  • সোডিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে।
  • শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক সবার জন্য নিরাপদ।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত ওআরএস ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

৩. লেবু-লবণ পানি: সহজ ঘরোয়া সমাধান

এক গ্লাস পরিষ্কার পানিতে লেবুর রস, এক চিমটি লবণ এবং সামান্য মধু বা চিনি মিশিয়ে তৈরি করা যায় একটি কার্যকর রিহাইড্রেশন পানীয়।

এই পানীয়—

  • সোডিয়ামের মাধ্যমে শরীরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে।
  • প্রাকৃতিক শর্করা দ্রুত শক্তি দেয়।
  • লেবুর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

তবে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।

৪. ঘোল: আর্দ্রতার পাশাপাশি পুষ্টির উৎস

দই বা টক দুধ থেকে তৈরি ঘোল দীর্ঘদিন ধরেই উপমহাদেশে জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন পানীয়।

ঘোলের উপকারিতা—

  • পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়াম ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে।
  • প্রোবায়োটিক উপাদান হজমে সহায়তা করে।
  • লবণ মেশানো হলে সোডিয়ামের ঘাটতিও পূরণ হয়।

গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং ক্লান্তি দূর করতে ঘোল বেশ কার্যকর।

৫. তরমুজের রস: সুস্বাদু সতেজ সমাধান

তরমুজে প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি পানি থাকে। পাশাপাশি এতে রয়েছে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান।

তরমুজের রস—

  • শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করে।
  • ইলেকট্রোলাইটের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
  • গরমে তাৎক্ষণিক সতেজতা এনে দেয়।

স্বাদ বাড়াতে এতে পুদিনাপাতা বা সামান্য লবণ যোগ করা যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের পরিমিত পরিমাণে পান করা উচিত।

কোন পানীয় কখন

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ক্লান্তি বা গরমে ঘামের পর ডাবের পানি, ঘোল কিংবা লেবু-লবণ পানি যথেষ্ট হতে পারে। তবে ডায়রিয়া, বমি বা গুরুতর পানিশূন্যতার ক্ষেত্রে ওআরএস সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প।

সতর্কতা

  • অতিরিক্ত লবণ বা চিনি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
  • গুরুতর পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা দ্রুত হৃদস্পন্দনের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
  • বাজারের সব স্পোর্টস ড্রিংক প্রয়োজনীয় নয়, অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ পানি বা ওআরএসই যথেষ্ট।

শরীরকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে শুধু পর্যাপ্ত পানি পান করাই যথেষ্ট নয়, একই সঙ্গে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি। অতিরিক্ত ঘাম, গরম আবহাওয়া, অসুস্থতা বা শারীরিক পরিশ্রমের কারণে হারিয়ে যাওয়া তরল ও খনিজ উপাদান পূরণে ডাবের পানি, ঘোল, লেবু-লবণ পানি, তরমুজের রস কিংবা ওআরএসের মতো পানীয় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পরিস্থিতি ও শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী সঠিক পানীয় নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ও সচেতনভাবে শরীরের জল ও ইলেকট্রোলাইটের চাহিদা পূরণ করতে পারলে পানিশূন্যতা এড়ানোর পাশাপাশি সার্বিক স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতাও বজায় রাখা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), সিডিসি, মায়ো ক্লিনিক, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক এবং পুষ্টি ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন।





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html