জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) শুভেচ্ছাদূত তাহসান খান কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন।
এ সময় রোহিঙ্গা তরুণদের সঙ্গে তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন তাহসান।
আলোচনায় রোহিঙ্গা তরুণরা দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুত জীবনের অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শিক্ষা, কমিউনিটির সহায়তা এবং অর্থবহ কর্মকাণ্ড কীভাবে তাদের মানসিকভাবে দৃঢ় থাকতে সহায়তা করছে, সে বিষয়টিও তুলে ধরেন তারা।
তাহসান খান বলেন, ‘‘এই তরুণদের দৃঢ়তা ও অদম্য মানসিকতা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। বছরের পর বছর বাস্তুচ্যুত জীবন কাটিয়েও তারা স্বপ্ন দেখতে, শিখতে এবং একটি ভালো ভবিষ্যতের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কণ্ঠ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কেন শরণার্থীদের পাশে থাকা এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি।’’
সফরকালে তিনি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা তরুণদের সঙ্গেও কথা বলেন। তারা জানান, এসব প্রশিক্ষণ তাদের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি একদিন নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতিতেও সহায়তা করছে।
এ প্রসঙ্গে তাহসান বলেন, ‘‘আজ যেসব তরুণের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, তাদের অনেকেই জীবনের বেশির ভাগ সময় শরণার্থী হিসেবে কাটিয়েছেন। তবুও তারা শিখছেন, নতুন কিছু তৈরি করছেন এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন। শুধু আশা থাকলেই হবে না, শরণার্থীদের দক্ষতা অর্জনের সুযোগও প্রয়োজন, যাতে একদিন তারা নিজেদের সমাজ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পারেন।’’
বাংলাদেশ বর্তমানে মিয়ানমারে সহিংসতা ও নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠী। এমন এক সময়ে এই সফর অনুষ্ঠিত হলো, যখন মানবিক সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
তবে নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের সুযোগ এখনও তৈরি না হওয়ায় শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং তরুণদের সম্পৃক্ততায় বিনিয়োগ তাদের আশা ধরে রাখতে, সক্ষমতা বাড়াতে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মানবিক সংস্থাগুলো।
তাহসান খান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘আজ যেসব রোহিঙ্গা মানুষের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, তারা এখনও একদিন নিজের দেশে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও তাদের পাশে থাকা জরুরি।’’