বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর একটি কক্ষ থেকে এক নারী ও তার দুই কন্যাসন্তানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে শহরের জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত নারীর নাম স্মৃতি রানী। তিনি বরগুনা শহরের কালিবাড়ী এলাকার দুলাল রায়ের স্ত্রী। পুলিশ বলছে, মৃত মেয়ে দুটি তাদের সন্তান। স্মৃতি রানী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে পার্টটাইম (খণ্ডকালীন) ঝাড়ুদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকালে ডাকবাংলোর ৩ নম্বর কক্ষে আনুমানিক ছয় বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর লাশ বিছানার ওপর পড়ে থাকতে দেখেন বাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে বরগুনা থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৩ নম্বর কক্ষ থেকে এক শিশুর ও পাশের ৪ নম্বর কক্ষের দরজা ভেঙে স্মৃতি রানী ও প্রায় দুই বছর বয়সী আরেক শিশুর লাশ উদ্ধার করেন।
খবর পেয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ইব্রাহিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নজরুল ইসলাম মোল্লা জানান, আজ বেলা ১১টার দিকে দুই সন্তানসহ কাজে আসেন স্মৃতি রানী। ধারণা করা হচ্ছে, দুই সন্তানকে হত্যা করে মা আত্মহত্যা করেছেন।
আত্মহত্যার কারণ কী জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রতিবেশী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে স্মৃতি রানী ঋণগ্রস্ত ছিলেন। এসব কারণে আত্মহত্যা করতে পারেন। পুলিশ তদন্ত করলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ব্যাপারে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম বলেন, ‘ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। তিন জনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে বলা যাবে, আসলে কী ঘটনা ঘটেছে; কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।’