সিন্ধু পানিচুক্তি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনার মধ্যে ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক। তিনি বলেছেন, পাকিস্তারের পানির ভাগে কেউ হাত দিলে বা পানির হিস্যা কেড়ে ‘সেই হাত কেটে দেওয়া হবে’।
সংবাদ সম্মেলনে মালিক অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানের পানির অংশ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে এবং ইসলামাবাদের প্রাপ্য পানি প্রবাহে বাধা দিচ্ছে।
ডনের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী একটি কল নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি বলছেন, পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও যেতে দেবেন না।
মালিক বলেন, পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ জীবিকার জন্য কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থানের অর্ধেক এবং অর্থনীতির ২৫ শতাংশের সঙ্গে এ পানি জড়িত বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, পাকিস্তার আগেই ঘোষণা করেছে, তাদের পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করলে তার কঠোর পরিণতি হবে।
মালিক আরও বলেন, আমরা নিজেদের রক্ষা করবো। কেউ যদি আমাদের পানির ভাগে হাত দেয়, তাহলে সেই হাত কেটে দেব।
তিনি দাবি করেন, বিশ্বের অনেক জায়গায় কোনও চুক্তি ছাড়াই আন্তর্জাতিক রীতিনীতির ভিত্তিতে নদীর পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকে। সেখানে সিন্ধু পানিচুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও কীভাবে পানি প্রবাহ বন্ধ করা যায়, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ বিষয়টি উত্থাপন করা হবে বলেও জানান।
একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতা উল্লাহ তারার বলেন, সিন্ধু পানিচুক্তি এখনও আইনগতভাবে কার্যকর এবং এটি একতরফাভাবে স্থগিত, বাতিল বা সংশোধন করা সম্ভব নয়। তার দাবি, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পাকিস্তানের এ অবস্থান সমর্থন পাচ্ছে।
এর কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদমন্ত্রী সি আর পাটিল এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে সিন্ধু নদীর পানিতে ভারতের প্রাপ্য অংশ পুরোপুরি ব্যবহার করা হবে এবং ভারতের জন্য নির্ধারিত এক ফোঁটা পানিও পাকিস্তানে যেতে দেওয়া হবে না।
সূত্র: এনডিটিভি