দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন প্রবৃদ্ধির চালক তৈরি করা না গেলে অর্থনীতির ভবিষ্যৎ ফিকে হয়ে যেতে পারে। আর সেই নতুন প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান খাত হতে পারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্প—এমন মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পিপিআরসির (পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান।
শনিবার (৬ জুন) ‘বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের ভবিষ্যৎ কি ফিকে হয়ে আসছে’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে তিনি এসব কথা বলেন। পিপিআরসি এ ওয়েবিনারের আয়োজন করে।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ২০১৭ সালে ট্যানারি শিল্প সাভারের হেমায়েতপুরে স্থানান্তর করা হলেও সেই প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি। বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করার লক্ষ্যেই ট্যানারিগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রায় এক দশক পর দেখা যাচ্ছে, বুড়িগঙ্গার দূষণ সমস্যার সমাধান হয়নি, বরং ধলেশ্বরী নদীও দূষণের ঝুঁকিতে পড়েছে।
তিনি বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে একটি অসম্পূর্ণ স্থানান্তর হয়েছে। এ অবস্থায় চামড়া শিল্পনগরীর পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি হাজারীবাগে ট্যানারি মালিকদের জমির যথাযথ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিতে হবে।
চামড়া শিল্পনগরীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, শিল্পনগরীকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) অধীনে দেওয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। বর্তমানে এটিকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) অথবা বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অধীনে নেওয়ার আলোচনা চলছে। এই প্রক্রিয়া আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করা উচিত বলে তিনি মত দেন।
সম্প্রতি অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক্-অর্থায়ন স্কিম রয়েছে। এ প্রসঙ্গে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, চামড়া খাতও এ তহবিলের আওতাভুক্ত। ফলে এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে খাতটিতে নতুন বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়বে এবং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।
ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন এবং কৃষি অর্থনীতিবিদ এম এ সাত্তার মণ্ডল।
চামড়া শিল্পের উদ্যোক্তাদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) চেয়ারম্যান মো. টিপু সুলতান, ফুটওয়্যার, লেদার গুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. নাসির খান এবং বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ।
বক্তারা চামড়া খাতের পরিবেশগত সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, অর্থায়ন সমস্যা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে চামড়া শিল্প দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত হতে পারে।