ফরম পূরণের টাকা জমা দেওয়ার পরও পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা নাটোর ও বগুড়ার ১৪ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জটিলতার সমাধান হয়েছে। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের হস্তক্ষেপে তাদের ফরম পূরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) থেকে তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। এ ঘটনায় নাটোরে অভিযুক্ত এক অফিস সহকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের আটজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী ফরম পূরণের জন্য টাকা জমা দেওয়ার পরও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
বিষয়টি নজরে আসামাত্র শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
অভিযোগে বলা হয়, কলেজটির অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের টাকা গ্রহণ করলেও তা যথাযথভাবে জমা দেননি। ফলে প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
মন্ত্রী ঘটনাটি জানার পর দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে শুক্রবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড দ্রুত তাদের ফরম পূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ইতোমধ্যে তাদের ফরম পূরণের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল শনিবার (৪ জুলাই) থেকে তারা নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ঘটনাটি জানার পর নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক ও লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলামের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ করেও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুল হওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এছাড়া বগুড়ার মহাস্থানগড়ের ছয়জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। মন্ত্রী এ বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নির্দেশ দেন। ইতোমধ্যে তাদেরও ফরম পূরণের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আগামীকাল থেকে তারাও নিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।