ঢাকাWednesday , 8 July 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সমাবেশে বিস্ফোরণ: কোন কারণে সরকারের ইন্ধন দেখছে এনসিপি-জামায়াত


July 8, 2026 12:40 am
Link Copied!


সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’য় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ গত কয়েক বছর বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা সংঘর্ষ হলেও কোনও সমাবেশে ককটেল বা হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেনি। এ হামলার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে, এমন বিশ্লেষণও হচ্ছে।

কারণ ওই সমাবেশে ছিলেন এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম, যিনি সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। আরও ছিলেন আরেক সংসদ সদস্য ও দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ জুলাই আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা। তাদের উপস্থিতিতে এমন হামলা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। বিশেষ করে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশে এ ধরনের ঘটনাকে অনেকে অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করেন, এর মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অবনতির পূর্ব লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

এ ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ঘটনার দিন রাতেই রাজধানীতে বিক্ষোভ করে ককটেল বিস্ফোরণের জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন দলটির নেতারা। তারা মনে করেন, প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতেই এই হামলা। একই ধরনের অভিযোগ এনেছে তাদের প্রধান মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘‘রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে এ ধরনের হামলা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিরই বহিঃপ্রকাশ।’’

তিনি মনে করেন, সরকার অতীতের মতো বিরোধী দলকে দমনের চেষ্টা করছে। কিন্তু তাদের পরিণতি ভালো হয়নি। তবে হামলা নিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্যকে রাজনৈতিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘এনসিপির সমাবেশে কারা হামলা করেছে, সেটা তদন্তের বিষয়।’’ তিনি মনে করেন, রাজনীতিতে অনেক কিছুই ঘটে। এটিও তেমন ঘটনা। তবে এর মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোনদিকে যাবে, সেটা এখনই বলা সম্ভব নয়।

আহতদের সর্বশেষ অবস্থা

এনসিপি সূত্রে জানা যায়, তাদের সমাবেশে হামলার ঘটনায় জুলাই শহীদ শ্রাবণ গাজীর বাবা মান্নান গাজী ও দুজন সাংবাদিকসহ ৫ জনকে আহত অবস্থায় এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত অন্যরা হলেন—শাহীন খন্দকার, জসীম উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, ডিবিসি নিউজের ক্যামেরাপারসন মো. মজনু এবং এনপিবি নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মো. সাঈদুল ইসলাম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এরই মধ্যে আহত ৫ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। আরেকজন এখনও হাসপাতালে আছেন। তিনি বাম পায়ে আঘাত পেলেও তেমন গুরুতর নন। তার চিকিৎসা চলছে।

সাভারে কী ঘটেছিল?

দেশজুড়ে জুলাই পদযাত্রার অংশ হিসেবে সোমবার (৬ জুলাই) রাতে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে সেখানে ককটেল বিস্ফোরণে ঘটনা ঘটে। এতে দুই সংবাদকর্মীসহ কমপক্ষে ৬ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের আগে সমাবেশস্থলের বিদ্যুৎ চলে যায়। তবে কিছুক্ষণ পরই ফিরে আসে। এরপর রাত পৌনে ১০টার দিকে সমাবেশ চলাকালে বিস্ফোরণ ঘটে।

এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে সাভার মডেল থানায় বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা করেছে এনসিপি। এ ঘটনায় যুবলীগের দুই কর্মীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

বিস্ফোরণের সময় মঞ্চে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সার্জিস আলম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন।

হালকা করে দেখার সুযোগ নেই

দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশে এই সময়ে একটি দলের সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখছেন রাজনীতিবিদরা। তারা মনে করেন, এর মাধ্যমে কেউ কেউ ফায়দা নিতে চেষ্টা করতে পারে। তাই বিষয়টিকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘এ ধরনের ঘটনা মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়। বিএনপি, এনসিপি বা জামায়াত যে দলের সমাবেশেই হামলা করা হোক না কেন, বিষয়টিকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।’’

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বার্তাটি ভালো নয়। একটি রাজনৈতিক দলের ওপর হামলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এর মাধ্যমে কোনও মহল থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা কিনা সেটি খতিয়ে দেখা উচিত।’’

সরকারকে দায়ী করছে কেন জামায়াত-এনসিপি?

এনসিপির সমাবেশে হামলার ঘটনায় সরকারকে দায়ী করেছেন দলটির নেতারা। এছাড়া তাদের প্রধান মিত্র জামায়াতের পক্ষ থেকেও একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে। দল দুটি মনে করে, অতীতের মতো বিরোধী মতকে দমন করতে চায় সরকার।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সোমবার (৬ জুলাই) এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘এ ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটা মানেই পুলিশের ব্যর্থতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা। আমরা মনে করছি, এটার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।’’

বিবৃতিতে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এ নিয়ে সরকার দায় এড়াতে পারে না। জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও আরেকজন সংসদ সদস্যসহ একটি দলের শীর্ষ নেতাদের যদি নিরাপত্তা না থাকে, সেখানে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?’’ তিনি বলেন, ‘‘আমরা মনে করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতায় এমন হামলা করেছে।’’ তিনি জানান, তারা জুলাইয়ের শক্তি হওয়ায় আওয়ামী লীগেরও তাদের প্রতি প্রতিহিংসা আছে। গত বছর জুলাইয়ে এনসিপির বাংলামোটর কার্যালয়ের সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তিনি সাভারের ঘটনায় পুরোপুরি সরকারকে দায়ী করেন।

আদীব বলেন, ‘‘সরকার জুলাইয়ের শক্তিকে সহ্য করতে পারছে না। তাই রাজনৈতিকভাবে নিপীড়নের পথ বেছে নিচ্ছে।’’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘কারা হামলা করেছে, সেটি তদন্ত সাপেক্ষ। তবে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারেনি বলে আমরা মনে করি।’’ তার মতে, সরকারবিরোধী দলকে দুর্বল করতে এমন পদক্ষেপ নিয়ে থাকতে পারে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

সরকার ও বিএনপির অবস্থান

সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে সরকার। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি মনে করে, কারা হামলা করেছে, তা তদন্ত-সাপেক্ষ। তারা বিষয়টিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ছেড়ে দিতে চান। এ নিয়ে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি এনসিপির সমাবেশে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাকে দুঃখজনক বলে আখ্যায়িত করেন এবং  প্রতিবাদ জানান।

একইসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, “সরকারের কাজ প্রতিবাদ জানানো না, সরকারের কাজ হচ্ছে এটার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা, তদন্ত করা।’’ হামলার ঘটনার পর নাহিদ ইসলামের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

‘‘তিনি (নাহিদ ইসলাম) একটি রাজনৈতিকের দলের প্রধান, যিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার কাছ থেকে আমরা আরেকটু দায়িত্বশীল মন্তব্য আশা করি।’’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘এনসিপির সমাবেশে কারা হামলা করেছে, তার তদন্ত করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমরা মনে করি এ ধরনের হামলা যারাই করেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত।’’





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html