দিল্লির শাহীনবাগ কবরস্থানে ২০২১ সালের এপ্রিলে দাফন করা এক নারীর কবর পুনরায় ব্যবহার বা একই কবরে পুনরায় অন্য কাউকে দাফন করার অনুমতি বহাল রেখেছে দিল্লির একটি আদালত। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কবরের ওপর সাময়িক সুরক্ষার দাবি মেনে নিলে তা সীমিত সাধারণ পাবলিক জমির ওপর ব্যক্তিমালিকানাধীন অধিকার তৈরি করবে, যা বৃহত্তর সমাজের স্বার্থের পরিপন্থি।
গত ১০ জুলাই প্রদত্ত এক আদেশে জেলা জজ অতুল আহলাওয়াত নিম্ন আদালতের নির্দেশ বহাল রেখে এম বাশারাত হুসাইনের আপিল আবেদনটি খারিজ করে দেন। বাশারাত হুসাইন তার স্ত্রীর কবরের সুরক্ষার দাবি জানিয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন। তার যুক্তি ছিল, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ কঙ্কাল বা দেহাবশেষ পচে যাওয়ার আগে কবর পুনঃখনন বা পুনর্ব্যবহার করা যায় না। দেহাবশেষ সম্পূর্ণ মিশে যেতে অন্তত সাত বছর সময় লাগে এবং এর আগে কবর ভাঙলে তা মৃতের মর্যাদা ও সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হবে।
অন্যদিকে, জামিয়ত উলামা-ই-হিন্দের ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং কবরস্থানের তত্ত্বাবধায়ক মুফতি আবদুল রাজিক এই আবেদনের বিরোধিতা করেন। তারা আদালতকে জানান, কোনও সরকারি কবরস্থানে নির্দিষ্ট কবর আজীবন সংরক্ষিত রাখার কোনও আইনি, ধর্মীয় বা চুক্তিবদ্ধ অধিকার আবেদনকারীর নেই। বর্তমানে কবরস্থানটিতে দাফনের জায়গার তীব্র সংকট চলছে এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ধর্মীয় রীতি মেনে মর্যাদার সঙ্গেই কবর পুনর্ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে।
শুনানি শেষে আদালত জানান, ইসলামি আইনে সাধারণভাবে কবর খননে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কবরস্থানের তীব্র সংকট থাকলে পুনর্ব্যবহারের ব্যতিক্রমী বিধান ধর্মীয় গ্রন্থে স্বীকৃত আছে। উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে যে পবিত্র কোরআনে কবর পুনর্ব্যবহারের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা নেই এবং তারা হাদিসের ওপর নির্ভর করেছেন। ইসলামি আইনশাস্ত্র অনুযায়ী, সংকটের সময় প্রয়োজনে কবর পুনর্ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও প্রথম মৃতের হাড় বা দেহাবশেষ অপসারণ করা নিষিদ্ধ।
বিচারক তার আদেশে বলেন, স্ত্রীর দেহের মর্যাদা রক্ষার খাতিরে আবেদনকারী যে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা চেয়েছিলেন তা কোনও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মঞ্জুর করা সম্ভব নয়। কারণ এটি করলে সমাজের তথা মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনের জন্য ব্যবহৃত একটি সীমিত সরকারি জমির ওপর ব্যক্তিগত অধিকার তৈরি হতো।
আদালত আরও উল্লেখ করেছে, বাশারাতের স্ত্রীদেহটি এখনও সম্পূর্ণ পচে যায়নি কিংবা কবর পুনর্ব্যবহারের জন্য ন্যূনতম সাত বছর সময় লাগার সপক্ষে আবেদনকারী কোনও বৈজ্ঞানিক বা অকাট্য প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। কোনও প্রমাণ ছাড়া কেবল মুখের দাবি কোনও নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য যথেষ্ট নয়। নিম্ন আদালতের রায়ে কোনও আইনি ত্রুটি বা খামখেয়ালিপনা না পাওয়ায় আবেদনটি খারিজ করে পূর্বের রায়ই বহাল রাখেন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে