গত সপ্তাহে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে নিজেদের বিদায়ের পর এক বড় ধরনের সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। টুর্নামেন্টে দ্য ফ্যারাওদের হয়ে অন্যতম সেরা পারফর্মার ছিলেন তিনি; পাঁচ ম্যাচে করেছেন দুটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের দ্বিতীয় গোলটিও করেছিলেন এই ২৯ বছর বয়সী তারকা। তবে সেই ম্যাচে সাতবারের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মিসর ২-০ গোলে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায়। জিকোর নামের পাশে ওই রাতে আরও গোল থাকতে পারত, তবে ফাউলের কারণে তার আগের একটি গোল বাতিল করে দেওয়া হয়।
এখন আর্জেন্টিনার বিপক্ষের সেই ম্যাচটি নিয়ে এক বড় ধরনের তথ্য ফাঁস করেছেন জিকো। তিনি জানিয়েছেন, মাঠে বিশ্বসেরা তারকা লিওনেল মেসির উপস্থিতি তাকে বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারেনি।
২৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার দাবি করেন, মেসি তর্কাতীতভাবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হলেও তার মূল অনুপ্রেরণা পর্তুগিজ আইকন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। জিকো বলেন, ফুটবলে মেসিই সেরা খেলোয়াড়, তবে তা ক্রিশ্চিয়ানোর পরে। কারণ আমি ক্রিশ্চিয়ানোকে অনেক বেশি ভালোবাসি। আমি মাঠে মেসির উপস্থিতিই টের পাইনি।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের পর জিকো অভিযোগ করেছিলেন যে পুরো ম্যাচজুড়ে রেফারিং মোটেও ন্যায্য ছিল না এবং তার দল ‘স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ অবিচারের’ শিকার হয়েছে। সে সময় টুর্নামেন্টটি ‘পাতানো’ বলেও দাবি করেন তিনি।
ম্যাচ শেষে সম্প্রচারমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ক্ষোভ প্রকাশ করে জিকো বলেছিলেন, ‘ন্যায্য নয়, রেফারি মোটেও ন্যায্য ছিলেন না। অবিচার, এটি আমাদের ওপর স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ অবিচার। তিনি পুরো একটি দেশের প্রচেষ্টাকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন। ম্যাচের শুরু থেকেই তিনি আমাদের বিপক্ষে ছিলেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমাদের ২-০ গোলে জয়ী হয়ে মাঠ ছাড়ার অনুমতি ছিল না। এই টুর্নামেন্টটি পাতানো। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।’
দেশের সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে জিকো আরও বলেছিলেন, ‘আমরা আজ তাদের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমরা তা পারলাম না। তবে আমি কসম খেয়ে বলছি, এটি আমাদের হাতের বাইরে ছিল। সবকিছু ছিল রেফারির হাতে। টুর্নামেন্টটি যে পাতানো, তা এমনিতেও স্পষ্ট।’
সূত্র: এনডিটিভি