অতিভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় নয় দিন ধরে বিপর্যস্ত ছিল বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকা। আট দিন পর সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল থেকে নামতে শুরু করেছে সেই পানি। এর মধ্য দিয়ে ভেসে উঠছে ক্ষতচিহ্ন। পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। জেলা ও উপজেলার নিম্নাঞ্চলের পানিও নেমে গেছে।
পানি নেমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষজন নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। বাড়িতে ফিরেই বাড়ি ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার করতে শুরু করেছেন তারা। ডুবে যাওয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি, অফিস পরিস্কারে ব্যস্ত সময় পার করছেন সবাই।
সোমবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের প্রতিটি বাড়ির ভেতরে ও আশপাশে বন্যার ময়লাযুক্ত পানি ও কাদামাটি স্তূপ হয়ে আছে। সেগুলো পরিষ্কারে ব্যস্ত সবাই। কেউ কেউ দূর থেকে পানি এনে ঘরে ঢেলে পরিষ্কার করছেন, আবার অনেকে ডুবে যাওয়া প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, কাপড়সহ আসবাবপত্র ধোয়ার জন্য স্থানীয় পুকুরে ভিড় করছেন।
বন্যাদুর্গত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, এবারের বন্যা প্রতিবারের চেয়ে ভিন্ন এবং অধিক কষ্টের। কয়েক দফা পানি বেড়েছে এবং কমেছে। যার কারণে টানা নয় দিন বাড়িঘর পানিতে ডুবে ছিল। আজ সকাল থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। এখন আশ্রয়কেন্দ্র থেকে ফিরে বাড়ি ও আশপাশে জমা ময়লা পরিষ্কার করতে হচ্ছে।
সদরের আর্মিপাড়ার বাসিন্দা নুর জাহান বলেন, ‘আজ সকালে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি এসেছি। আমাদের কষ্টের শেষ নেই। এতদিন আশ্রয়কেন্দ্রে কষ্টে থেকেছি, এখন বাড়িতে এসেও কষ্ট করছি।’
শের-ই-বাংলা নগরের বাসিন্দা মো. শাহজাহান বলেন, ‘পরিবারের সবাই এখন ঘরের ময়লা-আবর্জনা ধোয়ামোছার কাজে ব্যস্ত। বন্যার পানিতে ভেসে আসা ময়লার স্তূপ ঘরের ভেতরে জমেছে। আসবাবপত্র পুকুরে গিয়ে ধুয়ে আনতে হচ্ছে। পানি উঠলেও কষ্ট, নামলেও কষ্ট, আশ্রয়কেন্দ্রেও কষ্ট। কষ্টের শেষ নেই।’
বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি এবারের বন্যাকবলিত এলাকার প্রতিটি পরিবার যেন ত্রাণ পায়। তাই নিজেই ঝুঁকি নিয়েই প্রত্যেক এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেছি। চেষ্টা করেছি কেউ যেন খাবারের জন্য কষ্ট না পায়। এখন পানি নামতে শুরু করেছে। পাশাপাশি বন্যার ক্ষত ভেসে উঠতেও শুরু করেছে। আশা করছি, এখন ভোগান্তি কমে যাবে।’
এদিকে বন্যায় প্রধান সড়কের পানি কমতে শুরু করায় পুরোপুরি চালু না হলেও কিছু কিছু যানবাহন চলাচল শুরু করেছে।
বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী অংসুই প্রু মারমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখনও সড়ক থেকে পুরোপুরি পানি নামেনি। পানি কমলেই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। রাস্তাঘাটের কিছু ক্ষতি হয়েছে। সেগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করবো আমরা।’