আধুনিক কাতারের রূপকার সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে সমবেদনা জানাতে সেদেশে জানবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভোরে দোহার উদ্দেশে রওনা হবে বাংলাদেশের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লেখা একটি সমবেদনাপত্র কাতারের আমিরের কাছে হস্তান্তর করবেন স্পিকার। আগামী ১৬ জুলাই তাদের দেশের ফিরে আসার কথা রয়েছে।
শেখ হামাদ ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কাতার শাসন করেছেন। জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশটির চোখধাঁধানো উন্নয়নের একজন গুরুত্বপূর্ণ কারিগর তিনি। তাঁকে আধুনিক কাতারের স্থপতি ধরা হয়। তিনি কাতারের বর্তমান আমিরের বাবা। শেখ হামাদের শাসনামলে কাতারের অর্থনৈতিক, সামাজিক আর সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়। এটা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশটির মর্যাদা বাড়িয়ে তোলে। তাঁর হাত ধরে কাতার একটি ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে গুলশানে কাতার দূতাবাসে খোলা শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারের জ্যেষ্ঠতম মন্ত্রী হিসেবে তিনি এ শোকবার্তায় সই করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
শোকবার্তায় মন্ত্রী শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশের জনগণ এবং নিজের পক্ষ থেকে কাতার সরকার, রাজপরিবার ও ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ কাতারে সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ, আন্তরিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে।
তিনি আরও জানান, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির মৃত্যুতে শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) অর্ধদিবস রাষ্ট্রীয় শোক পালন করবে। এছাড়া, কাতারের আমির, রাজপরিবার এবং ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সংহতি ও সমবেদনা জানাতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল দোহা সফর করবে।