২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা রাশেদ খাঁন এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগের মাধ্যমে ছাত্রনেতা থেকে জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নতুন অধ্যায় শুরু হলো তার।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বাসিন্দা রাশেদ খাঁন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের’ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘গণঅধিকার পরিষদ’ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং দলটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।
গত ডিসেম্বরে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন রাশেদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগ দেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার আংশিক) আসনে তাকে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। মির্জা ফখরুল ওই আসনের নেতা-কর্মীদের রাশেদ খাঁনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরপরই গণঅধিকার পরিষদ তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উচ্চতর পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাশেদ খাঁনকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিবাদে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ বিক্ষোভও করে। পরে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে ৫৫ হাজার ৬৭০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন তিনি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি রবিবার (১৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়। উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে নিয়োগের তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সোমবার (২০ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রজ্ঞাপনের কপি প্রকাশ করে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে তার সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ দিয়েছেন। বাংলাদেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিমূর্তি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্যারকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যেন সততা, আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে পালন করতে পারি, সে জন্য সবার দোয়া ও ভালোবাসা চাই। নতুন এই পথচলায় সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।’