সরকারের উচ্চশিক্ষা পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শিক্ষা ও শিল্প খাতের সহযোগিতা বিষয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চিতকরণ সেল (আইকিউএসি) এ সভার আয়োজন করে।
অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘শিক্ষা ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে কাজ চলছে। ইউজিসির সহযোগিতায় ইতোমধ্যে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও শিল্প খাতের সহযোগিতায় প্রায় ২৫০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা-শিল্প সহযোগিতা ইউনিট স্থাপন এবং শিল্প খাতের সঙ্গে পদ্ধতিগত কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষা ও শিল্প খাতের সহযোগিতায় সরকারের চারটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা, শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদের অতিথি শিক্ষক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদানে যুক্ত করা, কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম প্রণয়নে শিল্পের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে তৈরি জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করে শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি করা।’
ইউজিসি সদস্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শুধু চাকরির জন্য প্রস্তুত করলে হবে না, তাদের মধ্যে চাকরি দেওয়ার সক্ষমতাও তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবিত ধারণা ও প্রযুক্তি শিল্পে প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি করতে হবে।’
তরুণদের দক্ষতা ও উদ্ভাবনী কাজে যুক্ত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় সহায়তার জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও ৮০০ কোটি টাকার তহবিলের উদ্যোগ রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নে ইউজিসির তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।’
তৃতীয় ভাষা শিক্ষার উদ্যোগেও নোবিপ্রবিকে নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে ওয়াই-ফাই ও অনলাইনভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
গবেষণায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, ‘গবেষণা প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করার জন্য ইউজিসির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন তহবিলের গবেষণা বরাদ্দ প্রকল্পের যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলকভাবে দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে।’
দেশের জনমিতিক লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘তরুণ ও শিক্ষার্থীরা এই লভ্যাংশের বড় অংশ। তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।’