বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফিটা যেন পুরো একটি জাতির স্বপ্নের প্রতীক। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ এখনও টাটকা। সেই আনন্দ নিয়েই প্রায় ১৪ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা শেষে সোমবার রাজধানী মাদ্রিদে ফিরেছে স্পেন দল। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে শহরের রাজপথ; সবখানেই তাদের বরণ করে নিতে ছিল উৎসবের প্রস্তুতি।
স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে মাদ্রিদ-বারাজাস বিমানবন্দরে অবতরণ করে স্পেন দলকে বহনকারী আইবেরিয়ার বিশেষ উড়োজাহাজ। নির্মেঘ নীল আকাশের নিচে বিমানটি যখন ধীরে ধীরে ট্যাক্সিপথে এগোচ্ছিল, ককপিটের জানালা দিয়ে উড়ছিল স্পেনের লাল-হলুদ জাতীয় পতাকা। মুহূর্তটি যেন বিশ্বজয়ের আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হয়ে ওঠে।
বিমানের দরজা খুলতেই সবার আগে নেমে আসেন স্পেনের রূপান্তরের কারিগর, প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার কিছুক্ষণ পরই হাতে বিশ্বকাপের ঝলমলে ট্রফি নিয়ে বেরিয়ে আসেন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় রদ্রি। মাথার ওপর উঁচিয়ে ধরা সেই ট্রফিই যেন বলে দিচ্ছিলো, এক দশকেরও বেশি সময়ের অপেক্ষার পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে স্পেন।
বিমানবন্দর থেকেই শুরু হয় ব্যস্ত কর্মসূচি। প্রথমে মাদ্রিদের উপকণ্ঠে জারজুয়েলা প্রাসাদে রাজা ষষ্ঠ ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের আমন্ত্রণে মনক্লোয়া প্রাসাদে হবে সরকারি সংবর্ধনা।
তবে দিনের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত আয়োজন রাজকীয় আনুষ্ঠানিকতার পর। ছাদখোলা বাসে করে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করবে স্পেন দল। সেই শোভাযাত্রার গন্তব্য ঐতিহাসিক সিবেলেস স্কয়ার, যেখানে যুগের পর যুগ ধরে বড় শিরোপা জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় স্পেনের ক্রীড়াজগত।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর ধারণা, প্রিয় ফুটবলারদের একনজর দেখতে এবং বিশ্বকাপ ট্রফিকে স্বাগত জানাতে মাদ্রিদের রাস্তায় জড়ো হবেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। কারও হাতে জাতীয় পতাকা, কারও গায়ে লাল জার্সি, কারও কণ্ঠে বিজয়ের গান; পুরো শহরই যেন রূপ নেবে এক বিশাল উৎসবমঞ্চে।
২০১০ সালের পর আবার বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলেছে স্পেন। তাই এবারের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ফুটবল দলের দেশে ফেরা নয়, বরং একটি হারিয়ে যাওয়া গৌরবের পুনরুদ্ধারের উদযাপনও। আর সেই উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে সোনালি ট্রফিটি, যেটি নতুন করে লিখেছে স্প্যানিশ ফুটবলের ইতিহাস।
সূত্র: এএফপি