ঢাকাSunday , 13 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা

মানুষের কেন ট্রল করতে ইচ্ছে হয়?


September 13, 2026 10:30 am
Link Copied!


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যকে নিয়ে মজা করা, খোঁচা দেওয়া কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে বিব্রত করার প্রবণতা অনেকের কাছেই নিছক বিনোদন। কারও পোস্টে একটি কটূক্তি করে লাইক-রিপ্লাইয়ের বন্যা দেখে আবারও একই কাজ করতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু এই অভ্যাসের পেছনে মস্তিষ্কের একটি আচরণিক চক্র কাজ করতে পারে।

ট্রল করার পর কমেন্টে লাইক, রিয়্যাকশন বা রিপ্লাই এলে মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেম সক্রিয় হয়। ভেন্ট্রাল স্ট্রিয়াটাম থেকে ডোপামিন নিঃসরণের মাধ্যমে পাওয়া এই সাময়িক আনন্দকে মস্তিষ্ক এক ধরনের পুরস্কার হিসেবে নিতে পারে। ফলে একই ধরনের আচরণ বারবার করার প্রবণতা তৈরি হয়।

সামনাসামনি কাউকে কথা বলার সময় তার মুখের অভিব্যক্তি, কণ্ঠস্বর ও প্রতিক্রিয়া সহজেই বোঝা যায়। এতে অন্যের কষ্ট বা অস্বস্তি অনুভব করার সুযোগ থাকে। কিন্তু অনলাইনে পর্দার ওপাশের মানুষটিকে অনেক সময় বাস্তব একজন মানুষ হিসেবে অনুভব করা হয় না। মনোবিজ্ঞানে ড. জন সুলার এ ধরনের আচরণকে ‘অনলাইন ডিসইনহিবিশন ইফেক্ট’-এর সঙ্গে ব্যাখ্যা করেছেন।

ট্রলিংয়ের সঙ্গে ব্যক্তিত্বের কিছু বৈশিষ্ট্যেরও সম্পর্ক রয়েছে। কানাডীয় গবেষক বাকেলস ও তার সহযোগীদের ২০১৪ সালের এক গবেষণায় নিয়মিত ট্রলকারীদের মধ্যে স্যাডিজম, নার্সিসিজম ও সাইকোপ্যাথির মতো বৈশিষ্ট্য বেশি দেখা যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ট্রল করা কি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?

নিয়মিত ট্রল করার অভ্যাস আচরণগতভাবে ক্ষতিকর চক্র তৈরি করতে পারে। ট্রল করে পাওয়া তাৎক্ষণিক আনন্দের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে অভ্যাসটি বন্ধ করার সময় সাময়িক বিরক্তি, অস্থিরতা বা ছটফটানি দেখা দিতে পারে। এটি অনেকটা তামাক বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস বদলের সময় দেখা দেওয়া সাময়িক প্রতিক্রিয়ার মতো।

নিয়মিত ট্রলিংয়ের কারণে যুক্তি-বুদ্ধি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে ধীরে ধীরে ব্যক্তি বিচ্ছিন্নতা, বিষণ্ণতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণহীনতার দিকে যেতে পারেন।

কীভাবে ট্রল করার অভ্যাস থেকে বের হবেন?

৫ সেকেন্ডের বিরতি: কোনও পোস্ট দেখে রাগ বা ট্রল করার ইচ্ছা হলে কমেন্ট করার আগে পাঁচ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। এই ছোট বিরতিটুকু আবেগের তাড়না সামলে যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ফোনটা কিছুক্ষণ দূরে রাখুন: ট্রল করার ইচ্ছা জাগলে সঙ্গে সঙ্গে কমেন্ট না করে অন্য কোনও কাজে মনোযোগ দিন। বারবার এমন করলে পুরোনো অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা সহজ হতে পারে।

নিজের ট্রিগারগুলো চিহ্নিত করুন: কোন পেজ, গ্রুপ বা নির্দিষ্ট ধরনের বিষয়বস্তু আপনাকে ট্রল করতে বেশি প্ররোচিত করে, সেগুলো চিহ্নিত করুন। প্রয়োজন হলে আনফলো বা ব্লক করুন।

একটু সহানুভূতিশীল হওয়ার চেষ্টা করুন: কমেন্ট লেখার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—একই কথা কেউ আপনাকে বা আপনার কাছের কাউকে বললে কেমন লাগত?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশের সুযোগ সবারই আছে। তবে প্রতিটি কমেন্ট করার আগে কয়েক সেকেন্ড থেমে ভাবলে অনলাইন আচরণ যেমন বদলাতে পারে, তেমনি অপ্রয়োজনীয় নেতিবাচকতার চক্র থেকেও বেরিয়ে আসা সম্ভব।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html