ঢাকাThursday , 17 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ডিসেম্বরেই প্রথম সার্বভৌম ডলার বন্ড, সংগ্রহের লক্ষ্য ১০০ কোটি  


September 17, 2026 4:55 pm
Link Copied!


আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম ডলার বন্ড ছাড়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রাথমিকভাবে এ বন্ডের মাধ্যমে ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বন্ডের আকার, মেয়াদ, সুদের হার, ইস্যুর সময় এবং অন্যান্য শর্ত চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন সরকারের অলটারনেটিভ ফাইন্যান্সিং কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর ইস্যুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম ডলার বন্ড আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী এবং আন্তর্জাতিক বন্ড ইস্যু নিয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির প্রধান তানভীর শাহরিয়ার গনি সম্প্রতি এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিদেশি পুঁজিবাজারে ডলার বন্ড ইস্যুর পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে বন্ডটি ইস্যু করা হতে পারে।

কেন ডলার বন্ড

এতদিন বৈদেশিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মূলত বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, আইএমএফসহ উন্নয়ন সহযোগীদের ঋণ ও বাজেট সহায়তার ওপর নির্ভর করেছে। বড় প্রকল্পেও এ ধরনের ঋণ গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়ন উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

তবে অর্থনীতির আকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের বৈদেশিক অর্থায়নের উৎসও বহুমুখী করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে সরাসরি গিয়ে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, সার্বভৌম ডলার বন্ড ইস্যু করতে পারলে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে একটি নতুন দরজা খুলবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের ক্রেডিট প্রোফাইল ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।

তানভীর শাহরিয়ার গনি বলেন, বাংলাদেশকে বিকল্প অর্থায়নের দিকে যেতে হবে। বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থায়নের নতুন উৎস যুক্ত হবে।

তার ভাষায়, ডলারে বন্ড ছেড়ে মূলধন সংগ্রহ করতে পারলে পরবর্তী সময়ে অন্যান্য মুদ্রায় বন্ড ইস্যু করাও সহজ হবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা যাবে এবং অন্যান্য বন্ডের মাধ্যমেও অর্থ সংগ্রহের সুযোগ বাড়বে।

৫০ কোটি ডলারের নিচে নয়

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ডের আকার এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে আলোচনায় রয়েছে ৫০ কোটি থেকে ১০০ কোটি ডলারের পরিসর।

বন্ডের সম্ভাব্য আকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বন্ডবাজারের বিভিন্ন মানদণ্ডও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে উদীয়মান দেশগুলোর সরকার ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক বন্ডের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণে জেপি মরগানের তৈরি ইমার্জিং মার্কেটস বন্ড ইনডেক্স-ইএমবিআই’র যোগ্যতার বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে সরকারের কমিটি।

কমিটির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এ ধরনের যোগ্য ঋণপত্রের বকেয়া অভিহিত মূল্য ৫০ কোটি ডলারের বেশি হতে হয়। ফলে প্রথমবারের বন্ডের আকার নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

একসঙ্গে আসছে আরও কয়েক ধরনের বন্ড

ডলার বন্ডকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ হিসেবে দেখছে না সরকার। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে বাংলাদেশের প্রবেশের ভিত্তি তৈরি করতে চায় সরকার।

ডলার বন্ডের পাশাপাশি সুকুক, পান্ডা, সামুরাই, ডিমসাম, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও ডায়াসপোরা বন্ড ইস্যুর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার বন্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপস্থিতি তৈরি করা হবে। এরপর পরিস্থিতি ও বাজারের সুযোগ বিবেচনা করে অন্যান্য মুদ্রা ও কাঠামোর বন্ড ইস্যু করা হতে পারে।

তানভীর শাহরিয়ার গনি বলেন, ডলার বন্ডের পর সুকুক, সামুরাই, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও ডায়াসপোরা বন্ড ইস্যু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ডলার বন্ডের মাধ্যমে বিকল্প অর্থায়নের যাত্রা শুরু হলে অন্যান্য বন্ড ইস্যুও তুলনামূলক সহজ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বন্ড ইস্যুতে ৮ সদস্যের কমিটি

আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সম্ভাব্যতা যাচাই এবং সরকারের বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজতে গত জুলাইয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। আট সদস্যের এই কমিটি বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সম্ভাব্যতা পর্যালোচনা করছে।

কমিটির দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—বন্ড কোন বাজারে ছাড়া হবে, কোন মুদ্রায় ইস্যু করা হবে, সম্ভাব্য আকার কত হবে, মেয়াদ কত হতে পারে, সুদের হার কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং কোন সময়ে ইস্যু করা সুবিধাজনক হবে— এসব বিষয়ে সুপারিশ করা।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারের আর্থিক ও কারিগরি শর্ত, বিনিয়োগকারীদের চাহিদা এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

কমিটি গঠনের পর একাধিক বৈঠক হয়েছে। ইতোমধ্যে ডলার-ডিনোমিনেটেড সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর বিষয়ে নীতিগতভাবে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরির কাজও চলছে।

সামনে পান্ডা বন্ডও

ডলার বন্ডের পাশাপাশি চীনের মুদ্রা ইউয়ানে পান্ডা বন্ড ইস্যুর বিষয়েও আলোচনা এগিয়েছে।

গত জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের আগে বাংলাদেশকে পান্ডা বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব দেয় চীন সরকার। সফরের আগে চীনের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করে।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতেও পান্ডা বন্ড চালুর উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ও চীনের সম্মতির কথা উল্লেখ করা হয়।

চলতি মাসের শুরুতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারের অলটারনেটিভ ফাইন্যান্সিং কমিটির বৈঠকেও পান্ডা বন্ডসহ বৈদেশিক মুদ্রায় সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর বিষয়টি আলোচনা হয়।

ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি ডলারের পান্ডা বন্ড ইস্যুর বিষয়ে সমর্থন জানান। তবে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বৈঠকে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সম্ভাব্য পান্ডা বন্ড ইস্যুতে চীন আগ্রহী হলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এ বিষয়ে আপত্তি তুলতে পারে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে পান্ডা বন্ডসহ বৈদেশিক মুদ্রায় সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর বিষয়টি আরও পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিকল্প অর্থায়নের বড় পরীক্ষা

সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের জন্য এটি আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। কারণ এর আগে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ সংগ্রহ করেনি।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে সুদের হার, দেশের ক্রেডিট রেটিং, বৈদেশিক মুদ্রার আয়, বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ও পরিশোধ সক্ষমতা—সবকিছুই বিনিয়োগকারীদের বিবেচনায় থাকে। ফলে বন্ডের অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি এর আর্থিক শর্তও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকেও অর্থ সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

তানভীর শাহরিয়ার গনি বলেন, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ মূলত খুব দরিদ্র দেশগুলোকে সহায়তার জন্য গড়ে উঠেছিল। বাংলাদেশের মতো প্রবৃদ্ধির পর্যায়ে থাকা একটি দেশের অর্থায়নের বিকল্প উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো প্রয়োজন।

সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে বাংলাদেশের জন্য নিয়মিতভাবে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ সংগ্রহের একটি নতুন পথ তৈরি হতে পারে। তবে প্রথম বন্ডের আকার, সুদের হার, মেয়াদ এবং অন্যান্য শর্ত চূড়ান্ত হওয়ার পরই বোঝা যাবে—এই নতুন অর্থায়ন বাংলাদেশের জন্য কতটা ব্যয়সাশ্রয়ী এবং দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html