উত্তর কোরিয়ার পর এবার দক্ষিণ কোরিয়ার কাছেও বড় ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশের মেয়েরা। জাপানে এশিয়ান গেমস ফুটবলে বৃহস্পতিবার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও চার গোল হজম করতে হয়েছে ঋতুপর্ণাদের।
‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। টানা দুই ম্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
প্রথম দুই ম্যাচ হারলেও বাংলাদেশের পরের রাউন্ডে ওঠার স্বপ্ন এখনও শেষ হয়ে যায়নি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারকে হারাতে পারলে তৃতীয় সেরা দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের সামনে। ম্যাচটি হবে ২১ সেপ্টেম্বর।
প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হওয়ার পর এই ম্যাচে ৬ জন সিনিয়র ফুটবলারকে শুরুর একাদশে ফেরান কোচ পিটার বাটলার। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৯৪ ধাপ এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে শুরু থেকেই রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। তবু লিড নিতে বেশি সময় নেয়নি দক্ষিণ কোরিয়া। ১৬ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন কিম মিন-জি।
৩৩ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বলে গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। প্রথম দফায় রুপনার সেভ এবং দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ডিফেন্ডারদের দৃঢ়তায় সে যাত্রায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ। দুই মিনিট পর চু হাইজুর দূরপাল্লার শটও লাফিয়ে উঠে ফিস্ট করে দেন রুপনা।
প্রথমার্ধের শেষ পাঁচ মিনিটে কিছুটা উপরে উঠে খেলার চেষ্টা করে বাংলাদেশের মেয়েরা। তবে মনিকা, তহুরা ও মারিয়াদের একটু ওপরে উঠে খেলার সুযোগ কাজে লাগায় দক্ষিণ কোরিয়া। ৪২ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করে তারা। ইউন সুজংয়ের ক্রস থেকে গোল করেন জং দা-বিন। তিন মিনিট পর নিজের দ্বিতীয় গোলটিও পেতে পারতেন এই ফরোয়ার্ড। তবে গোলমুখে নেওয়া দা-বিনের হেড গ্লাভসে জমা নেন বাংলাদেশ গোলকিপার রুপনা।
বিরতির পর তুলনামূলক আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের তুলনায় পাসিং ফুটবলে বেশি মনোযোগ দেন মনিকা-ঋতুপর্ণারা।
৫৬ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা আনিকা সিদ্দিকী বাঁ পাশ ধরে এগিয়ে গেলেও বক্সে ঢুকে শট নিতে পারেননি। তাকে আটকে দেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোলকিপার।
দুই মিনিট পর আবারও দারুণ একটি সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। ৫৮ মিনিটে ডান দিক দিয়ে উঠে আনিকাকে থ্রু পাস দেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন আনিকা। টপ কর্নার লক্ষ্য করে নেওয়া তার শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন দক্ষিণ কোরিয়ার গোলকিপার।
পরপর দুটি সুযোগ হাতছাড়া করার পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। গোলের সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারেননি আনিকা, মনিকা কিংবা ঋতুপর্ণারা। পরের ১৪ মিনিটে তিন গোল হজম করে বড় ব্যবধানের হার নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
৬৫ মিনিটে রক্ষণচেরা পাসে বল পান দক্ষিণ কোরিয়ার জি সুউন। এরপর কিছুটা এগিয়ে বদলি হিসেবে নামা চোই ইউরিকে থ্রু পাস বাড়ান তিনি। বল পেয়ে এগিয়ে আসা রুপনাকে ফাঁকি দিয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন এই ফরোয়ার্ড।
৭৭ মিনিটে হিউন সুলগির উঁচু ক্রসে লাফিয়ে উঠে বাংলাদেশের জালে বল পাঠান জি সুউন। দুই মিনিট পর ৭৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৫-০ করেন চোই ইউরি। আর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে বাংলাদেশের জালে দক্ষিণ কোরিয়ার ষষ্ঠ গোলটি করেন কো ইউ-জিন।