ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমের নির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার নয়, সাইবার ঝুঁকি চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধ এবং সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা অর্জন জরুরি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সিনেট হলে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত ‘এনহ্যান্সিং সাইবার সিকিউরিটি ক্যাপাবিলিটি অব ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফিসিয়ালস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটির (আইএফএসসিএস) উদ্যোগে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়
উপাচার্য বলেন, ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য এবং নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ‘ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে সারাদেশের সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অধিভুক্ত কলেজের সঙ্গে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান ও ডিজিটাল যোগাযোগ করে। ফলে তথ্যের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা প্রশাসনিক দক্ষতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, ‘সাইবার নিরাপত্তা শুধু আইসিটি বিভাগের দায়িত্ব নয়; প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এর সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, সন্দেহজনক লিংক বা ই-মেইল শনাক্ত ও বর্জন, তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং অনলাইনে দায়িত্বশীল আচরণ—সবকিছুই প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার নিরাপত্তার অংশ।’
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইএফএসসিএসের প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিন কাশেম।
দিনব্যাপী কর্মশালায় সাইবার নিরাপত্তা, সাইবার জালিয়াতি এবং সাইবার অপরাধের আইনগত কাঠামো নিয়ে তিনটি টেকনিক্যাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম সেশনে ‘সিকিউরিটি থ্রেট থেকে ডিভাইস ও নেটওয়ার্ক সিস্টেম সুরক্ষা’ বিষয়ে আলোচনা করেন সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিস্ট ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাইবার ফরেনসিক প্রসিকিউটর এবং বিইউবিটির সহযোগী অধ্যাপক তানভীর হাসান জোহা। দ্বিতীয় সেশনে ‘সাইবার জালিয়াতি ও নিরাপত্তা’ বিষয়ে আলোচনা করেন সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম
তৃতীয় সেশনে সাইবার নিরাপত্তা ও সাইবার অপরাধের আইনগত কাঠামো নিয়ে আলোচনা করেন পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. মাহবুবুল আলম।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক খাতুনে জান্নাত। কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দফতরের প্রধান, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা অংশ নেন।