ঢাকাSaturday , 13 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে কি দুর্নীতি কমবে, প্রশ্নে যা বললেন অর্থমন্ত্রী


June 12, 2026 10:10 pm
Link Copied!


সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঘোষিত নতুন পে স্কেল অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাদের বেতন-ভাতা বাড়ালে দুর্নীতি কমবে কি না— বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কমার কথা। কারণ অভাব থাকলে দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার একটি প্রবণতা তৈরি হয়।’

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

অথমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা নানা আর্থিক চাপে পড়ছেন। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হলে দুর্নীতি কমার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সরকারের প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, ‘গত ১১ বছর ধরে নতুন বেতন কাঠামো হয়নি। এ সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক বেড়েছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার বেতন কাঠামো পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ’। তার ভাষায়, ‘অতীতে অর্থনীতির সুফল মূলত কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আমরা চাই অর্থনীতির সুবিধা দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে। সেই লক্ষ্য থেকেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এই বাজেটের আওতার বাইরে কেউ নেই।’

কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, নতুন অর্থবছরের বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা গেলে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। এ লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার বিষয় নয়। মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় প্রয়োজন সঠিক অর্থনৈতিক নীতি, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন।

তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি কোনো স্বল্পমেয়াদি সমস্যা নয়। কয়েক বছর ধরেই এটি ঊর্ধ্বমুখী। গত তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধি এর অন্যতম কারণ।’

ব্যাংক খাতের দুর্বলতাকেও মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীতে ব্যাংক খাতে লুটপাট ও অর্থপাচারের কারণে মূলধনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোর তহবিল সংগ্রহের ব্যয় বেড়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম দেশীয় বাজারেও বেড়ে যাচ্ছে।

তবে বৈশ্বিক কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হবে অভ্যন্তরীণভাবে ব্যবসার খরচ কমানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করা।”

ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও সন্তোষজনক নয়। একটি প্রতিষ্ঠান গঠন কিংবা প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে অনেক ক্ষেত্রে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়। বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হয়, এতে সময় ও ব্যয় উভয়ই বৃদ্ধি পায়।

তিনি জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে সরকার ডিরেগুলেশন (বিনিয়ন্ত্রণকরণ) কার্যক্রম শুরু করেছে। এর মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ কমিয়ে ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা হবে, যাতে উদ্যোক্তাদের সময় ও ব্যয় উভয়ই কমে আসে এবং দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শাখাওয়াত হোসেন বকুল, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, মৎস্য ও কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ, শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।





Source link

🔴 LIVE html