ঋতুস্রাবের সময় তলপেট ও কোমরে ব্যথা, ক্লান্তি, পেট ফাঁপা কিংবা মেজাজের পরিবর্তন অনেকেরই হয়। কারও ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ দৈনন্দিন কাজেও প্রভাব ফেলে। এই সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও শক্তি জোগাতে পারে। তবে তীব্র বা অস্বাভাবিক ব্যথা হলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
প্রথম দিন: আয়রন ও পানিতে গুরুত্ব
ঋতুস্রাবের প্রথম দিকে রক্তক্ষরণের কারণে আয়রনের প্রয়োজনীয়তার দিকে নজর দেওয়া দরকার। পালংশাক, ডাল, বিট, খেজুর এবং মাছের মতো আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন। পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি। আদা বা দারচিনি দিয়ে হালকা গরম পানীয় আরামদায়ক হতে পারে।
দ্বিতীয় দিন: শক্তির জোগান
এই সময়ে শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী জটিল কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন রাখা যেতে পারে। ওটস, ডালিয়া, মিষ্টি আলুর সঙ্গে মাছ, ডিম বা মুরগির মতো প্রোটিন খাওয়া যায়। নিরামিষভোজীরা পনির, ছানা বা সয়াবিন বেছে নিতে পারেন। তিসি, চিয়া বীজ ও আখরোটের মতো খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। অতিরিক্ত মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়াই ভালো।
তৃতীয় দিন: সবজি ও ফল
শাকসবজি ও মৌসুমি ফল থেকে পাওয়া ফাইবার ও বিভিন্ন পুষ্টি শরীরের জন্য উপকারী। টক দইয়ের মতো ফারমেন্টেড খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে, যদি তা খেলে হজমের সমস্যা না হয়। পানি, শসা, তরমুজ ও ডাবের পানির মতো তরলসমৃদ্ধ খাবার শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
চতুর্থ দিন: পেট ফাঁপা ও খিদে সামলাতে
ঋতুস্রাবের শেষ দিকে কারও কারও পেট ফাঁপা, গ্যাস কিংবা বারবার খাওয়ার ইচ্ছা দেখা দিতে পারে। এ সময় কলা, সবুজ শাকসবজি, ডাল, ছোলা, বাদাম ও বীজের মতো ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন বি৬-সমৃদ্ধ খাবার রাখা যেতে পারে।
ওটস, ডালিয়া, শাকসবজি ও মৌসুমি ফলের মতো ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারও পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে।
কোন খাবার কমাবেন?
অতিরিক্ত লবণ, চিনি, ভাজাভুজি ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া ভালো। বেশি ক্যাফেইন বা এমন কোনও খাবার, যা ব্যক্তিগতভাবে গ্যাস বাড়ায়, সেগুলোও এড়িয়ে চলা যেতে পারে।
তবে ঋতুস্রাবের ব্যথা যদি নিয়মিতভাবে তীব্র হয়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়, মাথা ঘোরে বা ব্যথায় স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়, তাহলে কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।