ঢাকাWednesday , 28 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নোবেলজয়ী অ্যান কারসনের পাঁচটি কবিতা

UttorbongoBD
October 10, 2026 10:15 am
Link Copied!


অ্যান কারসনের ‘ডিক্রিয়েসশন’ গ্রন্থের পাঁচটি কবিতা অনুবাদ করেছেন অরুণাভ দাস। তিনি আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ক্যারোলিনা, কলম্বিয়াতে ইংরেজি সাহিত্যের পিএইচডি গবেষক, লেখক, অনুবাদক ও স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা।

রবিবার

ধোয়া কাপড়গুলো সন্ধ্যার ধূসর মুখে
অস্থির পাখির ডানার মতো কাঁপে।
রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে ঠান্ডা জমে।
পাতারা নিজেদের আরও কাছে টেনে নেয়।
রান্নাঘরের আলো জ্বলে—
ঘর যেন ধীরে ধীরে তার একাকিত্ব চিনতে শেখে।
সন্ধ্যার নরম, ভেজা রহস্যগুলো
অন্ধকারের গায়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দরজা খুলে দেয়।
মাকে ফোন করার সময় হয়েছে।
ফোনটা বাজুক।
ছয়বার।
সাতবার।
আটবার—তারপর
তিনি রিসিভার তোলেন;
কিন্তু কথার আগে দীর্ঘ এক নীরবতা থাকে।
দূরের ফাঁপা অন্ধকারে
মাঠ-ইঁদুরেরা শুকনো পাতার মতো
নিঃশব্দে ছুটে বেড়ায়।

বিধিরেখা

মায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে আমি জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখি। ফোনের পাশে বইগুলোর পিঠ।
পেপারক্লিপ
চীনামাটির পাত্রে। ডেস্কজুড়ে ভুলে থাকা রবারের ধুলো। মা বলেন
আকুল হয়ে
মৃত্যুর কথা। আমি সব পেপারক্লিপকে অন্যদিকে মুখ ফেরাই।
জানালার
বাইরে তুষার সোজা রেখা হয়ে পড়ছে। আমার মাকে,
আমার
জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটিকে, আমি বলি ব্রাঞ্চে কী খেয়েছি। তুষারের রেখাগুলো নেমে আসে
আরও দ্রুত
এখন। নিয়তি যেন তাদের প্রান্তে ভার বেঁধে দিয়েছে—আমাদের দূরে সরাতে। আমি চাই
তাকে বলতে—এও হয়তো ঈশ্বরের করুণা। তিনি আর কথা বাড়াবেন না,
তিনি
আমার বিল বাড়াবেন না। অলৌকিকতা নিঃশব্দে আমাদের পাশ দিয়ে চলে যায়। সেই
পেপারক্লিপগুলো
চিরকালীনভাবে সারিবদ্ধ। ঈশ্বরের করুণা! আর কতকাল
এভাবে
জ্বলবে হৃদয়—স্নেহশীল হতে চাওয়া শিশুটি বলেছিল।

আমাদের নিয়তি

সন্ধ্যার ঘরে মায়ের শেষ শেখানো কথাটি
পশ্চিম আকাশ ভেঙে দেয়, সব হিসাবের দরজা বন্ধ করে।
রাতে জানালায় চোখ রাখো—মানুষদের নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখবে।
ওরা আসলে আমরা—ঘরের ভেতরে থাকার জন্য একদিন অজুহাত ছিল আমাদের।
দিন এলো; আমরা ফল কেটেছিলাম, আর সঙ্গে
কেটে ফেলেছিলাম গাছটিকেও। এখন আমরা বাইরে।
এভাবেই তো এক পুরোনো ঋণ
শোধ হলো।

এখন আর কোনো আশ্রয় নেই

নিশ্বাস আর মৃত্যুর প্রাগৈতিহাসিক টানাপড়েনে আরেক রাতের ঘুম এসে জোটে।
আমরা আমাদের ঘরটি অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়ার কথা মেনে নিই।
সবকিছু মিলে যে জীবন,
তার টুকরোগুলোই বা কোথায় হারাল?
নিঃশব্দে পাতা, জানালা—সবই যেন অপেক্ষায় থাকে।
খালি কাপড়ের দড়ি ঢালু অন্ধকারের বুক চিরে চলে যায়।
হারিয়ে যাওয়া আকাশের আলোর পোশাকের জন্য শোক তুলে
দেবদূত আর উড়ে যাওয়া ধুলোজঞ্জাল আমাদের বন্ধ ফটক পেরিয়ে ডাকতে ডাকতে সরে যায়।

আজ তার দাম্পত্যের পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল

শীত প্রাচীন রোমান দেয়ালটিকে লক্ষ্য করে নিজের শোকের ভাষণ দেয়।
তীব্র আলো—(ভুবন ভরা)
আর ছায়ারা থেমে থাকে
নেমে আসতে থাকা গুণ্ঠনের অপেক্ষায়।
মস্তিষ্কের অনুরণন
দুবার,
এক চিমটি লবণের জন্য।
ওভিদই কী বলেছিলেন—এখানে এমন বাতাস যে পাথরগুলোও ফিকে হয়ে যায়।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html