ঢাকাTuesday , 16 June 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা

বাংলাদেশে ৭২ লাখ বজ্রপাত, কীভাবে তৈরি হয়?


June 16, 2026 9:15 am
Link Copied!


সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে আশঙ্কাজনক হারে বজ্রাঘাতের তীব্রতা বেড়েছে। একই সাথে বেড়েছে এতে মৃত্যুর সংখ্যা। চলতি বছরের প্রথম ৫ মাসে দেশে অন্তত ৮০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। শুধু মানুষ নয়, গবাদিপশুসহ অন্যান্য প্রাণীরও মৃত্যু ঘটেছে। এ অবস্থায় নিরাপদ থাকার উপায় নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

২০১৬ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বজ্রপাতকে ‘দুর্যোগ’ হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু বজ্রপাত থেকে জানমাল রক্ষায় কিছু তালবীজ রোপণ ছাড়া তেমন কোনও উদ্যোগ নেয়নি সরকার।

চলতি বছর ২৬ এপ্রিল একদিনে বজ্রপাতে দেশে ১৪ জনের মৃত্যু হয়। ৬ মে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ধান কাটতে গিয়ে ওবায়দুল হক (৫৪) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়। গত ২ জুন জেলার উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নে বজ্রাঘাতে রানা মিয়া (১৫) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী মারা যায়। আহত হয় আরেক কিশোর। এরপর গত ৩ জুন ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে আনোয়ার হোসেন (৪৫) নামে আরেক কৃষক মারা যান। একই দিনে নাগেশ্বরী উপজেলায় পৃথক দুটি স্থানে বজ্রাঘাতে দুটি গরু মারা যায়।

চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বজ্রপাতে দেশে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‘সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএফ)’। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই কৃষক। পরবর্তী দেড় মাসে এই সংখ্যা ১০০ অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে মার্চ থেকে জুন মাসের মধ্যে মৌসুমি ও কালবৈশাখী ঝড়ের সময় বেশি বজ্রপাত হয়। বজ্রঝলক কিংবা বজ্রপাতের ঘটনা সাধারণত ৪০ মিনিট থেকে এক ঘন্টা স্থায়ী হয়। প্রাণহানি এড়াতে বজ্রপাতের সম্ভাব্য সময় উন্মুক্ত স্থানে না থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। এক্ষেত্রে কংক্রিট কিংবা বিদ্যুৎ অপরিবাহী নির্মিত ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়া নিরাপদ। একই সাথে সম্ভাব্য বজ্রপাতের পূর্বাভাস নিয়ে মাঠে কাজ করা মানুষ বিশেষ করে কৃষক ও জেলেদের মাঝে সতর্কতামূলক প্রচারণার পরামর্শ তাদের। 

কেন এত বজ্রপাত

জলবায়ু গবেষকরা বলছেন, বজ্রপাত হলো পজিটিভ এবং ন্যাগেটিভ চার্জের বিনিময়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বজ্রমেঘ তৈরির প্রবণতা বেড়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত বজ্রমেঘ তৈরির উপাদান তৈরি করছি। ফলে বেশি বজ্রপাত হচ্ছে। বর্তমানে বজ্রপাতের শক্তির তীব্রতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর থেকে পরিত্রাণের জন্য বজ্রমেঘ সৃষ্টির নিয়ামক হ্রাসের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশবান্ধব তৎপরতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফিনল্যান্ডের ভাইসালা ইনকর্পোরেশন, যারা বজ্রপাতের স্থান, ধরন এবং সংখ্যা নিয়ে স্যাটেলাইট ডাটা সংগ্রহ করে তাদের বরাতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মুরাদ আহমেদ ফারুখ জানান, ২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৭২ লাখ বজ্রপাত কিংবা বজ্রঝলকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। মেঘ থেকে মেঘে এবং মেঘ থেকে ভূমিতে এই বজ্রপাতগুলো ঘটেছে। যা শঙ্কার বিষয়।

অধ্যাপক ফারুখ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বজ্রপাতের প্রবণতা এবং তীব্রতা বাড়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন অন্যতম কারণ। এই পরিবর্তনগুলোর নিয়ামক আমরা তৈরি করছি। যে উপাদানগুলোর কারণে বজ্রমেঘ সৃষ্ট হয় আমরা সেগুলো বেশি উৎপাদন করছি। বায়ুমন্ডল এবং ভূমির মধ্যে যে আন্ত:সম্পর্ক, প্রকৃতির সেই সম্পর্কের জায়গাগুলোকে নানাভাবে বিরক্ত করছি। গাছ কাটছি, জলাশয় শুকিয়ে ফেলছি, বিভিন্নভাবে গ্রিনহাউজ গ্যাস তৈরি করছি, প্লাস্টিক পুড়ছি, বায়ুদূষণ করছি। বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা বাড়ছে। এভাবে বজ্রপাতের অনুকূল উপাদান তৈরি করছি।’

বজ্রপাতের অন্যতম কারণ বায়ুদূষণ

বায়ুদূষণ বজ্রপাতের অন্যতম নিয়ামক উল্লেখ করে অধ্যাপক ফারুখ বলেন, ‘২০-২৫ বছর ধরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের কারণে আমাদের দেশে গ্রিনহাউজ গ্যাস বৃদ্ধি পাচ্ছে। এগুলো দেশের বায়ুমন্ডলে জমা হয়ে তাপ ধরে রাখছে। এছাড়াও ৫৮ শতাংশ বায়ুদূষণের কারণ হলো ইটভাটা। সাথে আছে অটোমোবাইল। এসব দূষণ বায়ুমন্ডলের উঁচু স্তরে জমছে। এর সাথে আর্দ্রতা বা জলীয় বাষ্প যুক্ত হয়ে প্রচুর পরিমাণে চার্জ তৈরি করছে। এই অনেকগুলো বিষয়ের সমন্বয় হলো বজ্রমেঘ ও বজ্রপাত বেড়ে যাওয়া।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বঙ্গোপসাগর এবং উত্তর ভারত মহাসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণ আর্দ্রতা বাংলাদেশের বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করছে। যখন আর্দ্রতা বাড়ছে এবং তাপমাত্রা বাড়ছে তখন সেগুলো থেকে বেশি পরিমাণে বজ্রমেঘ তৈরি হচ্ছে। বজ্রমেঘ তৈরি হওয়ায় চার্জের বিনিময় বাড়ছে এবং বজ্রপাতের সংখ্যাও বাড়ছে। চার্জগুলো বজ্রমেঘ ও বজ্রপাতের মাধ্যমে নেমে আসায় ভূমিতে থাকা আমাদের কৃষক-শ্রমিকরা মারা যাচ্ছেন।’

বাঁচার উপায় কী

বজ্রপাত থেকে রক্ষা পেতে ব্যক্তি ও জাতীয় পর্যায়ে পরিবেশ বান্ধব কাজের সাথে কিছু নিরাপত্তা উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

অধ্যাপক ফারুখ বলেন, ‘আমাদের দেশে সাধারণত মার্চ থেকে জুন মাসে বজ্রপাতের প্রবণতা বেশি। প্রচণ্ড গরম কিংবা তাপদাহের পর যদি আকাশ মেঘলা হয়ে আসে তাহলে বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ের সম্ভাবনা থাকে। এমন পরিস্থিতি দেখলে ঘরের বাইরে যাওয়া যাবে না। যেহেতু বজ্রপাতের সময় সর্বোচ্চ এক ঘন্টা বিরাজ করে সেহেতু জীবন রক্ষায় এই সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে।’

‘বজ্রপাতে কৃষক ও জেলেদের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। আপনি আমি ঘরের ভেতর থাকলেও কৃষক-শ্রমিকরা সেটা পারেন না। জীবিকার প্রয়োজনে তাদের বাইতে যেতে হয়। ব্রজপাতের সম্ভাবনা থাকলে সে সময় মাঠে যাওয়া যাবে না। আর মাঠে থাকা অবস্থায় বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিলে কাল বিলম্ব না করে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে’ কৃষকদের নিরাপত্তার বিষয়ে যোগ করেন এই শিক্ষক।

প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা নিয়ে এই শিক্ষক ও গবেষক বলেন, ‘প্রথম কাজ হলো বজ্রপাতের পূর্বাভাস নিশ্চিত করা। বর্তমানে কৃষকদের হাতে মোবাইল রয়েছে। সরকারিভাবে কৃষকদের ফোনে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে সঠিক সময়ে বজ্রপাতের পূর্বাভাস জানাতে হবে। এছাড়াও রেডিও কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও জানানো যেতে পারে। তাহলে কৃষকরা সম্ভাব্য বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকবেন। এছাড়াও কৃষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। কেমন মেঘে বজ্রপাত হতে পারে, কখন, কত সময় ধরে বজ্রপাত হতে পারে, কী ধরণের স্থানে আশ্রয় নেওয়া উচিৎ সে বিষয়ে জানাতে হবে।’

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এসএসটিএফ’র গবেষণা সেলের প্রধান আব্দুল আলীম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বজ্রপাতের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিকার কৃষক ও জেলে। বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকলে তারা যেন খোলা জায়গায় না থেকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। কোনও এলাকায় বজ্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ওই এলাকার মানুষ যাতে সয়ংক্রিয়ভাবে মোবাইলে সতর্কবার্তা পান সে ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি মাঠে মাঠে কৃষকদের জন্য স্বল্প দূরত্বের ব্যবধানে কংক্রিটের বজ্র আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি এবং বজ্র নিরোধক দণ্ড স্থাপন করা যেতে পারে। এতে তারা দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারবেন। এছাড়াও আগামী প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে প্রাথমিক স্তর থেকে বজ্রপাত সম্পর্কিত বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’





Source link

×

FIFA World Cup Live

FIFA World Cup সরাসরি দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html