বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হৃদ্রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিশেষ করে সত্তর পেরোলে হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া জরুরি। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, কোলেস্টেরল এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে শরীরের কিছু লক্ষণ আগে থেকে চিনতে পারলে বিপদের আঁচ পাওয়া সম্ভব। বুকের অস্বস্তি থেকে শুরু করে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট কোন কোন উপসর্গ দেখলে সতর্ক হবেন?
বয়স বাড়লে কেন বাড়ে হৃদ্রোগের ঝুঁকি?
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ধমনির নমনীয়তা কমতে পারে। ধমনির দেওয়ালে কোলেস্টেরল ও অন্যান্য পদার্থ জমে প্লাক তৈরি হলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে হৃদ্যন্ত্রে রক্ত সরবরাহ কমে গিয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান, অস্বাস্থ্যকর খাবার, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং পারিবারিক ইতিহাসও এই ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস হৃদ্যন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
কোন লক্ষণগুলি অবহেলা করবেন না?
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ সব সময় একই রকম হয় না। কখনও তীব্র ব্যথা দেখা দেয়, আবার কখনও উপসর্গ মৃদু হতে পারে। বুকের মাঝখানে চাপ, ভারী ভাব, ব্যথা বা জ্বালাপোড়া অনুভূতি হলে সতর্ক হতে হবে। এই অস্বস্তি হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড় বা চোয়ালেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
কোনও ভারী কাজ না করেও অস্বাভাবিক ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা কিংবা ঠান্ডা ঘাম হওয়াও বিপদের সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, বমি বমি ভাব বা হঠাৎ শরীর খারাপ লাগার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে।
সামান্য হাঁটাচলা বা সিঁড়ি ভাঙার সময় শ্বাসকষ্ট হওয়া, শুয়ে পড়লে শ্বাস নিতে অসুবিধা এবং রাতে শ্বাসকষ্টে ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো উপসর্গ হৃদ্যন্ত্রের দুর্বলতার ইঙ্গিত হতে পারে। পা, গোড়ালি বা পেট ফুলে যাওয়াও হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে। আবার হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত, ধীর বা অনিয়মিত মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
মনে রাখতে হবে, এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, এমন নয়। তবে বুকের চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, মাথা ঘোরা কিংবা ব্যথা হাত-চোয়ালে ছড়িয়ে পড়লে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ কয়েক দিন বা সপ্তাহ আগে থেকেই দেখা দেবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।
কীভাবে সুস্থ রাখবেন হৃদ্যন্ত্র?
বয়স বাড়লেও নিয়মিত যত্নের মাধ্যমে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। খাবারের তালিকায় শাকসবজি, ফল, ডাল, গোটা শস্য এবং পরিমিত স্বাস্থ্যকর প্রোটিন রাখুন। অতিরিক্ত লবণ, চিনি, ভাজাভুজি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া ভালো। ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং মদ্যপানের বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মানুন।
শরীরের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত হাঁটাচলা ও হালকা ব্যায়াম করুন। তবে আগে থেকে হৃদ্রোগ বা অন্য শারীরিক সমস্যা থাকলে ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করে নিন। নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করুন। কোনও উপসর্গ না থাকলেও বয়স ও ঝুঁকির ভিত্তিতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।