ঢাকাThursday , 29 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তিন বছর বাড়লো এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল


October 29, 2026 11:00 pm
Link Copied!


স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছরবাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। ফলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে উত্তরণের নতুন সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। বাড়তি এই সময়ে রফতানিতে বাণিজ্যসুবিধা ধরে রাখা, অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা শক্তিশালী করার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে উরুগুয়ে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। এর মধ্য দিয়ে এলডিসি উত্তরণের জন্য নির্ধারিত পাঁচ বছরের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর বাংলাদেশের আবেদন অনুমোদন পেলো।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সরবরাহে ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ এই সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল। সরকারের লক্ষ্য, বাড়তি সময় কাজে লাগিয়ে অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ানো এবং এলডিসি-পরবর্তী বাস্তবতার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা।

কেন বাড়তি সময় চেয়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ২০২১ সালে জাতিসংঘের নির্ধারিত এলডিসি উত্তরণের তিনটি সূচকেই প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করে। সে অনুযায়ী, পাঁচ বছরের প্রস্তুতিকাল শেষে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর দেশটির এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা ছিল।

তবে প্রস্তুতিকালে কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, রাজস্ব আদায়ে সীমাবদ্ধতা, বিনিয়োগে ধীরগতি ও রপ্তানিতে সীমিত পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) বাংলাদেশের আবেদন বিবেচনা করে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে ইতিবাচক অবস্থান নেয়। তবে কমিটি শর্ত দিয়েছে, বাড়তি সময়ে অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে হবে। পরে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদও (ইকোসক) প্রস্তাবটি সাধারণ পরিষদে বিবেচনার সুপারিশ করে।

রফতানি বাণিজ্যে বড় চ্যালেঞ্জ

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হবে আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যমান বিশেষ বাণিজ্যসুবিধা ধরে রাখা। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বাজারে বাংলাদেশ এলডিসি হিসেবে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা পেয়ে থাকে। উত্তরণের পর এসব সুবিধার কিছু অংশ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তবে কোন বাজারে কত দিন এবং কী শর্তে সুবিধা পাওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট দেশের বাণিজ্যনীতি ও চুক্তির ওপর নির্ভর করবে।

বাংলাদেশের মোট রফতানি আয়ের বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ফলে প্রধান রফতানি বাজারে শুল্ক বেড়ে গেলে দেশের পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের রফতানিকারকেরা পিছিয়ে পড়তে পারেন।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, নতুন বাজার খোঁজা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিয়ম, পণ্যের উৎসসংক্রান্ত শর্ত এবং শ্রম ও পরিবেশবিষয়ক মানদণ্ড পূরণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত করতে হবে।

বাণিজ্য চুক্তিতে জোর দেবে সরকার

এলডিসি উত্তরণের পরও বিদেশি বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।ন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ২০২৬ ও ২০২৭ সালের মধ্যে আট থেকে ১০টি দেশের সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) অথবা মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ আলোচনার প্রস্তুতিও চলছে। একই সঙ্গে ইইউর বাজারে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখা হয়েছে। আঞ্চলিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসেপ) চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করাই যথেষ্ট নয়। এসব চুক্তির সুবিধা কাজে লাগাতে হলে দেশের শিল্প খাতের উৎপাদনশীলতা, পণ্যের গুণগত মান এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

ব্যবসা সহজ করা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবসা শুরুর জটিলতা কমানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া থেকে শুরু করে আমদানি নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ এবং যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় গড়ে ৩৫৫ দিন লেগে যায়। এত দীর্ঘসূত্রতা বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে।

এ পরিস্থিতি বদলাতে একক অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদফতরের (আরজেএসসি) সেবা পুরোপুরি অনলাইনে আনা, লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানো এবং বিভিন্ন সংস্থার পরিদর্শন সমন্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানো এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দিতে হবে। এসব উদ্যোগ কার্যকর হলে উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ সহজ হতে পারে।

বাড়তি সময় কাজে লাগানোই বড় পরীক্ষা

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর ফলে বাংলাদেশ অর্থনীতির দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত সময় পাবে। তবে এই সময়কে শুধু উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখলে চলবে না। বরং প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের সময় হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, করের আওতা বাড়ানো, রাজস্ব আহরণ জোরদার, রফতানি বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসার ব্যয় কমানো এখন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা ও জবাবদিহি বাড়ানোও প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে এর সুফল নির্ভর করবে এই সময়ে কতটা কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন করা যায় তার ওপর। ২০২৯ সালের মধ্যে অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়াতে পারলে উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্যিক চাপ মোকাবিলা সহজ হবে। অন্যথায়, বাড়তি সময় পেয়েও রফতানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে শুধু সময় বাড়লেই হবে না, এই সময়ের মধ্যে তৈরি পোশাকসহ রফতানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। উৎপাদন ব্যয় কমানো, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, বন্দরের দক্ষতা বাড়ানো এবং ব্যবসা পরিচালনার জটিলতা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বাংলাদেশের প্রধান রফতানি বাজারগুলোতে বাণিজ্যসুবিধা ধরে রাখতে দ্রুত মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে নতুন বাজার তৈরি, রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম ও পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত করতে হবে। বাড়তি সময়কে কাজে লাগিয়ে এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করা গেলে এলডিসি উত্তরণের পরও বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান ধরে রাখা সহজ হবে।’’

 





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html