ঢাকাFriday , 30 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কোরআন হিফজের গুরুত্ব ও ফজিলত

UttorbongoBD
October 30, 2026 10:25 am
Link Copied!


পবিত্র কোরআনে কারিম হিফজ (মুখস্থ) করা ফরজে কিফায়া এবং এটি অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) নিজেও পবিত্র কোরআন হিফজ করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে হিফজের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে রাসুল (সা.) সর্বপ্রথম তাকে কোরআন শিক্ষা দিতেন। এরপর ওই নওমুসলিম তা অন্যদের শেখাতেন ও মুখস্থ করাতেন। এভাবেই অসংখ্য সাহাবি পবিত্র কোরআনের হাফেজ হন।

একটি যুদ্ধে ৭০ জন কোরআনের হাফেজ শহীদ হন। এ অবস্থায় হজরত ওমর (রা.) হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর কাছে প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘পবিত্র কোরআনকে গ্রন্থাকারে সংরক্ষণেরও ব্যবস্থা করুন। এভাবে হাফেজরা শহীদ হতে থাকলে একসময় কোরআনই হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

এরপর পবিত্র কোরআন হিফজ রাখার পাশাপাশি গ্রন্থাকারে সংকলন ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়েও এ ধারা অব্যাহত থাকে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি তোমাকে পড়িয়ে দেব, অতঃপর তুমি ভুলবে না।’ (সুরা আলা, আয়াত : ৬) এ আয়াত থেকে জানা যায়, পবিত্র কোরআন নাজিলের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো তা মুখস্থ করা ও স্মরণ রাখা।

মহান আল্লাহ আরও বলেন, ‘কাফিররা বলে—তার কাছে পুরো কোরআন একসঙ্গে অবতীর্ণ করা হল না কেন? আমি এভাবেই অবতীর্ণ করেছি। তোমার হৃদয়কে তা দ্বারা সুদৃঢ় করার জন্য আমি তোমার কাছে তা ধীরে ধীরে পরিকল্পিত স্তরে ক্রমশঃ আবৃত্তি করেছি।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত : ৩২) এ আয়াত থেকে জানা যায়, পবিত্র কোরআন অল্প অল্প করে নাজিল করার অন্যতম কারণ ছিল, যাতে রাসুল (সা.) সহজে তা হিফজ ও মুখস্থ করতে পারেন।

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘নিশ্চয়ই এর সংরক্ষণ ও পাঠ করানোর দায়িত্ব আমারই। সুতরাং যখন আমি তা পাঠ করি, তখন তুমি সেই পাঠের অনুসরণ করো। এরপর এর ব্যাখ্যা বুঝিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও আমার।’ (সুরা কিয়ামাহ, আয়াত : ১৭-১৯) এ আয়াতও আমাদের একটি বিশেষ শিক্ষা দেয়, তা হলো—পবিত্র কোরআন মুখস্থ করা এবং তা পাঠ করাও কোরআন নাজিলের অন্যতম উদ্দেশ্য।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমিই এ উপদেশ (কোরআন) নাজিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।’ (সুরা হিজর, আয়াত : ৯)

পবিত্র কোরআন সংরক্ষণের অর্থ হলো, এর শব্দ ও অর্থ—উভয়টির সংরক্ষণ। উম্মতের মধ্যে কিয়ামত পর্যন্ত এমন কোরআনের হাফেজ তৈরি হতে থাকবেন, যারা এর প্রতিটি হরফ ও অর্থ সংরক্ষণ করবেন।

যেহেতু পবিত্র কোরআন সর্বশেষ আসমানি কিতাব এবং তা চিরকালীন, তাই আল্লাহ তায়ালা নিজেই এর সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি এমনভাবে কোরআন সংরক্ষণ করেছেন যে, আজও পৃথিবীতে লাখ লাখ হাফেজ রয়েছেন। তাদের মাধ্যমে ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনাপরম্পরায় (তাওয়াতুর) পৃথিবীর মুসলমানদের জবানে একইভাবে কোরআন সংরক্ষিত রয়েছে। এর একটি শব্দ কিংবা হরকতেও কোনও পার্থক্য নেই।

যদি কোনও কারণে পৃথিবী থেকে পবিত্র কোরআনের সব লিখিত ও মুদ্রিত কপি বিলুপ্তও হয়ে যায়, তবুও কোরআনের একটি বাক্য কিংবা একটি শব্দও হারিয়ে যাওয়া বা পরিবর্তিত হওয়া সম্ভব নয়।

ইমাম রাজি (রহ.) বলেন, ‘পৃথিবীর কোনও গ্রন্থই পবিত্র কোরআনের মতো সংরক্ষিত নয়। কোরআন ছাড়া পৃথিবীর এমন কোনও গ্রন্থ নেই, যাতে কোনও ধরনের পরিবর্তন, পরিবর্ধন, শব্দগত বিকৃতি ও বিকৃতিসাধন ঘটেনি।’ (তাফসিরে কাবির, খণ্ড : ৫, পৃষ্ঠা : ২৬৫)

আলেমরা লিখেছেন, পবিত্র কোরআন সংরক্ষণের মাধ্যম মাত্র দুটি—এক. লিখিতভাবে সংরক্ষণ করা এবং দুই. হিফজ অর্থাৎ মুখস্থ করা। কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে পবিত্র কোরআনের শব্দগুলো উঠিয়ে নেওয়া হবে। তবে হিফজের মাধ্যমে কোরআনে কারিম সংরক্ষণের যে ব্যবস্থা, তা অবশিষ্ট থাকবে। এই হিফজের মর্যাদা পরকাল, এমনকি জান্নাত পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এ বিষয়ে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে।

রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র কোরআন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করেছে, সে সম্মানিত, পুণ্যবান ও আল্লাহর বার্তাবাহক ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবে। আর যে ব্যক্তি কোরআন পাঠের সময় আটকে যায় এবং কষ্ট করে তা পাঠ করে, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান।’ (সহিহ বুখারি)

প্রকৃত দক্ষ কোরআন তিলাওয়াতকারী ও পাঠক তিনিই, যিনি কোরআন ভালোভাবে মুখস্থ রাখেন এবং সুন্দর ও শুদ্ধভাবে তা পাঠ করতে পারেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) রাসুল (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র কোরআন পাঠ করেছে, সে নবুওয়াতের জ্ঞান (কোরআন) নিজের দুই পাঁজরের মধ্যবর্তী স্থানে (অন্তরে) ধারণ করেছে; যদিও তার কাছে ওহি নাজিল করা হয় না। আর কোরআনের ধারক ব্যক্তির জন্য সমীচীন নয় যে, সে রাগান্বিত ব্যক্তির সঙ্গে রাগ করবে কিংবা অজ্ঞ ব্যক্তির সঙ্গে অজ্ঞতাসুলভ আচরণ করবে। কারণ, তার অন্তরে আল্লাহ তায়ালার বাণী সংরক্ষিত রয়েছে।’ (শুআবুল ঈমান-মুসতাদরাকে হাকেম)

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘কিয়ামতের দিন পবিত্র কোরআন উপস্থিত হবে এবং সুপারিশ করে বলবে, হে আমার রব! এই হাফেজকে সম্মানের পোশাক পরিয়ে দিন। তখন আল্লাহ তায়ালা তাকে সম্মানের মুকুট পরাবেন। এরপর কোরআন বলবে, হে আমার রব! তাকে আরো সম্মানিত করুন। তখন আল্লাহ তায়ালা তাকে সম্মানের পোশাক পরিয়ে দেবেন। এরপর কোরআন বলবে, হে আমার রব! তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান। তখন আল্লাহ তায়ালা বলবেন, পড়তে থাকো এবং জান্নাতের মর্যাদায় উন্নীত হতে থাকো। প্রতিটি আয়াতের বিনিময়ে তার একটি করে নেকি বৃদ্ধি করা হবে।’ (সুনানে তিরমিজি)

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘পবিত্র কোরআন সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি কোরআনের সম্মান করে, সে আল্লাহ তায়ালার সম্মান করে। আর যে ব্যক্তি কোরআনের অবমূল্যায়ন ও অবমাননা করে, সে আল্লাহ তায়ালার অধিকারের অবমূল্যায়ন করে। কোরআনের ধারক-বাহক (হাফেজ ও আলেমরা) আল্লাহর রহমতের আওতাভুক্ত। তারা আল্লাহর বাণীর মর্যাদা ও সম্মান রক্ষাকারী। তারা আল্লাহর নূরে আবৃত। যারা তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখে, তারা আল্লাহর সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখে। আর যারা তাদের সঙ্গে শত্রুতা করে, নিশ্চয়ই তারা আল্লাহর অধিকারের অবমূল্যায়ন করে।’ (আল-জামি লি আহকামিল কোরআন, ইমাম কুরতুবি)

হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘জান্নাতের মর্যাদার স্তরসংখ্যা কোরআনের আয়াতসংখ্যার সমান। সুতরাং কোরআনের হাফেজদের মধ্যে যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করে এবং সম্পূর্ণ কোরআন পাঠ করে, তার ওপরে আর কেউ থাকবে না।’ (ইমাম বায়হাকি, শুআবুল ঈমান)

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী ও মাদ্রাসাশিক্ষক





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html