আতশবাজি না ফোটানোর বার্তা দিয়ে বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই উত্তপ্ত ভারতের মুম্বাইয়ের রাজনৈতিক অঙ্গন। এই ঘটনার পর মুম্বাইয়ের মেয়র রিতু তাওড়ে অভিনেত্রী দিয়া মির্জাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তাকে ‘হিন্দুত্ববিরোধী’ বলে অভিহিত করেছেন। মজার বিষয় হলো, ভিডিওটি খোদ মুম্বাইয়ের পৌর সংস্থা বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (বিএমসি) পক্ষ থেকেই তৈরি করা হয়েছিল।
বোম্বে হাইকোর্ট বায়ু দূষণ বৃদ্ধি এবং উৎসবের সময়ে পটকা ফোটানো নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য তিরস্কার করার পর বিএমসি উৎসবের মৌসুমে আতশবাজির বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে একাধিক তারকাকে যুক্ত করেছিল। তারই অংশ হিসেবে ৪৪ বছর বয়সী অভিনেত্রী দিয়া মির্জাকে নিয়ে এই সচেতনতামূলক ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছিল।
তবে বিজেপি মুম্বাই প্রধান অমিত সাতাম ভিডিওটির তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘দিয়া মির্জার কাছ থেকে দিওয়ালি উদযাপনের নিয়ম শেখার কোনও প্রয়োজন নেই’। এরপরই বিএমসির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়। যদিও মাধুরী দীক্ষিত, অজিঙ্কা রাহানে এবং মারাঠি অভিনেত্রী নিশিগন্ধা ওয়াডের মতো অন্য তারকাদের ভিডিওগুলো এখনও অনলাইনে বহাল রয়েছে।
ভিডিওটি মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত ধর্মের সাথে সম্পর্কিত নয় বলে দাবি করেছেন মেয়র রিতু তাওড়ে। তিনি বলেন, ‘এর সাথে কোনও ধর্মের সম্পর্ক নেই। তিনি সবসময় হিন্দু ও সরকারবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। তাকে বিরোধিতার কারণ এটাই, ধর্ম নয়। আমরা ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী’। তবে কোনও রকম আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়াই বিএমসি কর্তৃপক্ষ ভিডিওটি নামিয়ে নেয়।
মেয়র আরও বলেন, দিয়া মির্জা অতীতেও বাছাই করা প্রচারণা চালিয়েছেন, যা আমরা দেখেছি। তিনি তার ব্যক্তিগত হ্যান্ডলে যা খুশি পোস্ট করতে পারেন, কিন্তু বিএমসি হ্যান্ডলে তা করতে দেওয়া হবে না। সরকারের অধীনে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে’।
মেয়রের দাবি, প্রশাসনের ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভিডিওটি কেন প্রকাশ করা হয়েছিল এবং পরে কেন সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিএমসি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
মেয়র রিতু তাওড়ে বলেন, কেন এটি পোস্ট করা হলো এবং পরে সরানো হলো- এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর বিএমসি প্রশাসনের কাছ থেকেই পাবেন। বিএমসি প্রশাসন আমাদের সাথে পরামর্শ করেনি। ভবিষ্যতে যাতে এমনটি না ঘটে, সে বিষয়ে বিএমসি কমিশনারের সাথে আলোচনা করার কথা জানান তিনি।
এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আটওয়ালে বলেছেন, দিয়া মির্জা মুসলিম সম্প্রদায়ের হলেও বিষয়টি কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের সাথে সম্পর্কিত নয়। তিনি বলেন, ‘ভারত এমন একটি দেশ যেখানে ড. বি আর আম্বেদকরের দেওয়া সংবিধান প্রতিটি ধর্মকে তাদের উৎসব উদযাপনের অধিকার দিয়েছে’।
সূত্র: এনডিটিভি