বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মীরবাড়ি এবং নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের লক্ষ্যে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে পৃথক পৃথক স্থানে প্রকাশ্যে এসব গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নগুলোর নতুন নাম নির্ধারণ করা হবে বলে জানায় উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার মীরবাড়ি ইউনিয়নের গণশুনানি হয় বেতগাড়ী মীরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, মোকামতলা উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গণশুনানি হয় সৈয়দপুরের জগন্নাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং দিগন্ত ইউনিয়নের গণশুনানি হয় ভরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলে ও পৈতৃক বাড়ির নামানুসারে নবগঠিত ‘মীরবাড়ি’, ‘সীমান্ত’ ও ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নামকরণ করায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ অবস্থায় নামগুলো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। গত শনিবার (২০ জুন) বিকালে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি যায় জেলা প্রশাসকের কাছে। এর আগে শুক্রবার বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করে জেলা প্রশাসককে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেন। জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে দুটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা গণশুনানির দিন নির্ধারণ করেন। নিদের্শনা মোতাবেক শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান ইউনিয়নের প্রশাসককে গণশুনানি কমিটির আহ্বায়ক করেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় তিনটি স্থানে একযোগে গণশুনানির আয়োজন করা হয়। যেখানে স্থানীয় লোকজন নতুন নামের বিষয়ে মতামত দেন। সেগুলো থেকে নাম চূড়ান্ত হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘স্থানীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভৌগোলিক পরিচিতি ও জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই ইউনিয়নগুলোর নতুন নাম নির্ধারণ করা হবে। জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইউনিয়নগুলোর নতুন নাম চূড়ান্ত করা হবে।’
গত ১১ জুন বগুড়ার জেলা প্রশাসকের সই করা প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের কথা জানানো হয়। এতে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। শিবগঞ্জ উপজেলায় নতুন ইউনিয়নের নাম দেওয়া হয় ‘মীরবাড়ি’। অপরদিকে নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় গঠন করা তিনটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’। চারটি নতুন ইউনিয়নের মধ্যে মীরবাড়ি, সীমান্ত ও দিগন্ত—এই তিনটির নাম নিয়ে মূলত বিতর্ক তৈরি হয়।
অভিযোগ ওঠে, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নামে একটি ইউনিয়ন এবং তার দুই ছেলের নামে দুটি ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ির নাম ‘মীরবাড়ি’। তার বড় ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত এবং ছোট ছেলে মীর সাকলাইন আলম দিগন্ত।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা তৈরি হয় এবং নামকরণের প্রক্রিয়া ও গণশুনানি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে বিষয়টি জাতীয় সংসদেও উত্থাপিত হয়।
সংসদে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসক যাচাই-বাছাই ও গণশুনানির মাধ্যমে নতুন ইউনিয়নগুলোর নাম নির্ধারণ করেছেন। নাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে। নিজের দুই ছেলের নামের সঙ্গে ইউনিয়ন দুটির নাম মিলে যাওয়াকে মিরাকেলি বলে উল্লেখ করেন তিনি।