বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিক্সের দ্রুত অগ্রগতির কারণে অনেকেই হয়তো কল্পবিজ্ঞানের ‘রোবোকপ’-এর মতো রোবট পুলিশের কঠোর শাসনের দিন ঘনিয়ে আসছে বলে আশঙ্কা করছেন। তবে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে রোবট পুলিশের সেই ডিস্টোপিয়ান বা অন্ধকার ভবিষ্যৎ যে এখনও ঢের দূরে, তার এক নিখুঁত প্রমাণ মিললো যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও অঙ্গরাজ্যে। দীর্ঘ ১০ মাস টহল দিয়েও একজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা তো দূর, একটি জরিমানাও করতে না পারায় ব্যর্থতার দায়ে একটি রোবট পুলিশ প্রকল্প মাঝপথেই বাতিল করেছে ওহিও’র ডাবলিন শহরের প্রশাসন।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ভিত্তিক জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ভাইস -এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ মে ডাবলিন সিটি কর্তৃপক্ষ তাদের ‘ডাববট’ নামের স্বায়ত্তশাসিত সিকিউরিটি রোবটটির কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়। নাইটস্কোপ কোম্পানির তৈরি এই রোবটটি প্রায় ১০ মাস ধরে ডাবলিনের ‘রক ক্রেস পার্কিং গ্যারেজ’ পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল।
৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা, টু-ওয়ে ইমার্জেন্সি কমিউনিকেশন সিস্টেম এবং সরাসরি পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি জরুরি বোতামযুক্ত ‘ডাববট’ দেখতে ছিল অনেকটা জনপ্রিয় কল্পবিজ্ঞান সিরিজ ‘স্টার ট্রেক’-এর ক্যাপ্টেন ক্রিস্টোফার পাইকের লাইফ-সাপোর্ট হুইলচেয়ারের মতো। কিন্তু অত্যন্ত আধুনিক সব প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও এটি দিয়ে একটি সাধারণ ট্রাফিক কেস বা গ্রেপ্তারের মতো কোনো কাজই করানো যায়নি।
শহরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ১০ মাসের এই টহলে ডাববট এমন একটি ঘটনাও চিহ্নিত করতে পারেনি যেখানে পুলিশের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। প্রতিদিন পার্কিং গ্যারেজে স্রেফ ঘুরে বেড়ানো আর যান্ত্রিক ‘ব্লিপ-ব্লুপ’ শব্দ করা ছাড়া ডাববট আসলে কিছুই করেনি।
ডাবলিন শহরের মূল পরিকল্পনা ছিল ২৩৮,৪৪৮ মার্কিন ডলার (প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা) ব্যয়ে দুই বছরের জন্য এই রোবট পুলিশ মোতায়েন রাখা। কিন্তু রোবটটির চরম অকর্মণ্যতার কারণে মাত্র ১০ মাসের মাথায় চুক্তি বাতিল করায় ডাবলিন সিটি কাউন্সিলের চূড়ান্ত খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৭,৫০০ ডলার।
যদিও ডাবলিন প্রশাসন শুরু থেকেই জানিয়ে আসছিল যে এই রোবট কোনো মানুষের বিকল্প হিসেবে আনা হয়নি, বরং এটি ছিল একটি পরীক্ষামূলক পাইলট প্রজেক্ট। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি রোবটটি নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করতে পারত, তবে অদূর ভবিষ্যতে এটি যে মানুষের জায়গা নিয়ে নিত তা বলাই বাহুল্য। তবে আপাতত ওহিও’র রাস্তায় কোনো ‘ডাববট’ টহল দিচ্ছে না, এটি ডাবলিনের অপরাধীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্যও এক স্বস্তির খবর।