২০০২ সালের বিশ্বকাপ বিশ্বকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়ার মুচমুচে ফ্রাইড চিকেনের সঙ্গে। ২০১০ বিশ্বকাপে পর্যটকেরা স্বাদ পেয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিলটং-এর আর ২০১৪ সালে ব্রাজিলের কাইপিরিনহা ককটেল কেড়েছিল সবার নজর। এবার ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে এসে এক অদ্ভুত সসের প্রেমে পড়েছেন বিদেশি পর্যটকেরা, যার নাম ‘র্যাঞ্চ ড্রেসিং’। বাটারমিল্ক, উদ্ভিজ্জ তেল ও মশলার মিশ্রণে তৈরি এই আমেরিকান ড্রেসিংয়ের স্বাদে পর্যটকেরা এতটাই মজেছেন যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটের এক পোস্টে একজন ইউরোপীয় পর্যটক লিখেছেন, র্যাঞ্চ ড্রেসিং পাওয়া মানুষের মৌলিক অধিকার হওয়া উচিত!
পর্যটকদের এই উন্মাদনা এখন এতটাই তুঙ্গে যে, মার্কিন বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা সংস্থা টিএসএ বিষয়টি নিয়ে অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করতে বাধ্য হয়েছে। তারা লিখেছে, আপনাদের হ্যান্ডব্যাগগুলো আসলে র্যাঞ্চ ড্রেসিংয়ের ৪টি বোতল বহন করার জন্য তৈরি করা হয়নি।
নিয়ম অনুযায়ী বিমানে হ্যান্ডব্যাগে ১০০ মিলিলিটারের বেশি তরল নেওয়া নিষেধ, অথচ র্যাঞ্চের একটি সাধারণ বোতলই ৪৭৩ মিলিলিটারের হয়। তাই টিএসএ পর্যটকদের রসিকতা করে পরামর্শ দিয়েছে, এই সস বাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে তা যেন অবশ্যই মূল লাগেজে বুকিং দেওয়া হয়।
আমেরিকায় সালাদ ড্রেসিং হিসেবে র্যাঞ্চ কয়েক দশক ধরে এক নম্বরে থাকলেও এটি চিকেন উইংস থেকে শুরু করে পিজ্জার ডিপ হিসেবেও দারুণ জনপ্রিয়। ১৯৫০-এর দশকে আলাস্কায় কর্মরত এক কাঠমিস্ত্রি সহকর্মীদের খাবারের স্বাদ বাড়াতে এটি আবিষ্কার করেন। পরে ১৯৭২ সালে ক্লোরক্স কোম্পানি এটি কিনে নিয়ে বোতলজাত সংস্করণ বাজারে ছাড়ে। বর্তমানে দেশটিতে বছরে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের র্যাঞ্চ সস বিক্রি হয়। এমনকি হংকংয়ে থাকা একজন মার্কিন সাংবাদিকও বিশেষ দোকান থেকে আমদানি করা ১.২ লিটারের র্যাঞ্চের বোতল তার ফ্রিজে জমিয়ে রেখেছেন।
এবারের বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি শহরে প্রায় ১ কোটি আন্তর্জাতিক পর্যটক আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, ৫৭ শতাংশ বিদেশি নাগরিক মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও গণতন্ত্র নিয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। তবে রাজনীতি পাশে সরিয়ে মাঠের খেলায় আসা পর্যটকেরা টেক্সাস বারবিকিউ থেকে শুরু করে টুইঙ্কিস আর র্যাঞ্চ সসের মতো আমেরিকান খাবারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।
হুট করে তৈরি হওয়া এই সুযোগ লুফে নিতে মাঠে নেমেছে সস প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোও। হিডেন ভ্যালি নামের ব্র্যান্ডটি আগামী জুলাই মাসে খেলা চলাকালীন শহরগুলোতে শুকনো মশলার প্যাকেট বিলি করার পরিকল্পনা করছে, যা মেয়োনিজ ও বাটারমিল্কের সঙ্গে মিশিয়ে সহজেই সস তৈরি করা যাবে।
অন্যদিকে ক্রাফট-হেইঞ্জ কোম্পানি বিমানের নিয়ম মেনে ছোট আকারের টিএসএ-বান্ধব বোতল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। হিডেন ভ্যালির বিপণন কর্মকর্তা স্ট্যাসি স্টোকস অবশ্য আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য একটি সহজ বুদ্ধি দিয়েছেন, ‘আপনাদের স্যুটকেসগুলো র্যাঞ্চের শুকনো মশলার প্যাকেটে ভরে ফেলুন; যতদূর জানি, এ নিয়ে কেউ আপনাদের আটকাবে না।’
সূত্র: সিএনএন