ময়মনসিংহ নগরীতে রাজিব আহমেদ ওরফে রুবেল (৪০) নামে এক যুবককে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন ভাইয়ের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ ছাড়া তাদের আরেক ভাই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এসআই মোজাম্মেল হক চার আসামিকে মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে উপস্থাপন করেন।
তখন বিচারক তানজিনা ইসলামের কাছে এক আসামি জবানবন্দি দেন। বাকি তিন জনের রিমান্ড আবেদন করা হলে বিচারক প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে এসআই মোজাম্মেল হক বলেন।
রবিবার নগরীর রামকৃষ্ণ মিশন রোডের পাশের কলোনির একটি বাসা থেকে রুবেলের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার আব্দুল হামিদের ছেলে।
হত্যার ঘটনায় রবিবার রাতে নিহত রুবেলের বাবা আব্দুল হামিদ কোতোয়ালি মডেল থানায় বাড়ির মালিক নারীসহ ১১ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরও তিন-চার জনকে আসামি করে মামলা করেন।
এরপরই বাড়ির মালিকের চার ছেলেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের বয়স ৩০ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে। পাশাপাশি তাদের মাকে পুলিশের হেফাজতে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিয়ে দুপুরে পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, প্রায় এক মাস আগে রুবেল একটি বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে ওঠেন। মালিক হিসেবে বাড়িটি গৃহকর্ত্রী দেখভাল করেন। পরে ভাড়াটিয়া রুবেলের সঙ্গে বাড়ির মালিক ও তার ছেলেদের বিবাদ দেখা দেয়। একপর্যায়ে বাড়ির মালিক ও তার ছেলেরা রুবেলকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাগিদ দিতে থাকে।
‘এ অবস্থায় রবিবার ভোরবেলায় ভাড়াটিয়া রুবেল এবং বাসার মালিক ওই নারী বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে রুবেল বাসার মালিক নারীকে ‘‘যৌন নিপীড়ন’’ করেন।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘মায়ের সঙ্গে হওয়া ঘটনাটি জানতে পেরে পরিকল্পিতভাবে চার ছেলে রুবেলকে গলাকেটে নৃশংসভাবে হত্যা করে।’
মামলার এজাহারে বাদী বলেন, প্রায় মাস খানেক আগে রুবেল একটি বাসা ভাড়া নিয়ে একা বসবাস শুরু করেন। বাসা নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বাড়ির মালিক নারীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে বাড়িওয়ালী তাকে দ্রুত বাসা ছেড়ে দিতে বলেন। তবে কিছু সময় চাইলেও রুবেলকে বাড়িওয়ালী ও তার ছেলেরা নিয়মিত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
মামলায় বলা হয়, রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বাসা ছাড়াকে কেন্দ্র করে আবারও বাগবিতণ্ডা হয়। পরে বাড়িওয়ালী ও তার ছেলেদের সঙ্গে অন্য আসামিরা রুবেলের কক্ষে ঢুকে তাকে চেপে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করে চলে যায়।
এদিকে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক প্রশাসন মোহাম্মদ মাঈনউদ্দিন খান বলেন, ‘রবিবার দুপুরে এক নারী ধর্ষণের অভিযোগ এনে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।’