রফতানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতের জন্য শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার পরিবর্তে দেওয়া বিকল্প নগদ সহায়তার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে সরকার। এতদিন এ খাতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হলেও এখন থেকে তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান শাখা-১ থেকে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ সোহরাব হোসেনের সই করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে রফতানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতের জন্য বিদ্যমান বিকল্প নগদ সহায়তার হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এ সুবিধা পেতে হলে কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে প্রণোদনা গ্রহণের আগে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই দেশীয় উৎস থেকে কাঁচামাল— বিশেষ করে সুতা ও কাপড় সংগ্রহের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। এ শর্ত প্রযোজ্য হবে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং অন্যান্য রফতানিকারক সংগঠনের সদস্যদের ক্ষেত্রেও।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, নতুন এই নগদ সহায়তার হার চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকল্প নগদ সহায়তার হার ৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় দেশীয় বস্ত্র ও টেক্সটাইল শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে। একইসঙ্গে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতা ও কাপড় ব্যবহারে রফতানিকারকরা আরও উৎসাহিত হবেন। এর ফলে দেশীয় ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় কাঁচামালের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে এবং রফতানি খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অর্থ বিভাগ এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগকে এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।