আগেই ঘোষণা ছিল, ফাইনালের আগের দিন বিকেলে নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে জড়ো হবেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। ‘বান্দেরাজো আর্জেন্টিনো’ নামে সেই বড় র্যালিতে যেমন ঘোষণা, তেমনি সাড়া। চারদিক থেকে সাদা-আকাশি জার্সি গায়ে হাজারো সমর্থক টাইমস স্কয়ারে জড়ো হয়ে স্লোগান দিয়েছেন, গান ধরেছেন। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-স্পেনের মহারণের আগে শনিবার থেকেই যেন পুরো টাইমস স্কয়ার মেতে ওঠে মেসির দলের সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে।
শুধু টাইমস স্কয়ারই নয়, নিউইয়র্ক শহরের বিভিন্ন জায়গায়ও দেখা গেছে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগমও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সেখানে হাঁটাই কঠিন হয়ে পড়ে। গগনবিদারী স্লোগান, পতাকার মিছিল আর বিশ্বকাপের চিরচেনা সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা সমর্থকদের পাশাপাশি পর্যটকরাও যোগ দেন এই উৎসবে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যানহাটনের জনাকীর্ণ এলাকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষের উপস্থিতি হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। যানজট নিরসন ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টাইমস স্কয়ারের কিছু সড়ক বন্ধ রাখা হয়। ভিড় সামলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও হিমশিম খেতে হয়।
আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা টাইমস স্কয়ারের নাম দিয়েছেন ‘আর্জেন্টাইমস স্কয়ার’। এই নাম লেখা একটি ব্যানারও টানানো হয়েছে। ম্যারাডোনা ও মেসির প্রতিকৃতি সংবলিত পতাকাও উড়তে দেখা গেছে।
টাইমস স্কয়ারের বড় পর্দায় দেখানো হচ্ছে মেসিদের নানা কীর্তি। বিপুল জনসমাগমে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আর্জেন্টাইন কনস্যুলেট থেকেও নিয়মিত সতর্কবার্তা দেওয়া হচ্ছে। জরুরি নির্দেশনায় সমর্থকদের জনপথ বন্ধ করে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কোনো ধরনের উদযাপন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। শহরের ব্যস্ততম পয়েন্টগুলোতে প্রবেশপথ সচল রাখার ওপরও জোর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এমন আয়োজনে অংশ নিতে পেরে বেশ উচ্ছ্বসিত আন্দ্রে হুলিয়ান। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি আনন্দ করতে। আমাদের দল ফাইনালে উঠেছে। আশা করছি, লিওনেল মেসির দল ট্রফি জিতবে। ফুটবলই আমাদের প্রাণ। এখন সবাই ফাইনালের অপেক্ষায়।’
বুয়েন্স আয়ার্স থেকে আসা মারিয়াও ফাইনাল দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। ম্যাচের আগে টাইমস স্কয়ারে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন, ‘টাইমস স্কয়ারের কথা আগে থেকেই শুনে আসছি। এখানে সবাই একসঙ্গে জড়ো হয়েছি দলকে নানাভাবে উজ্জীবিত করতে এবং সবাইকে আমাদের ফুটবলের প্রতি অগাধ ভালোবাসার কথা জানাতে। আশা করছি, রোববার ট্রফি জিতে আমরা আরও বেশি আনন্দ করতে পারব।’
টাইমস স্কয়ারের আশপাশে এমনই জনসমাগম ছিল যে মূল কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছানোই কঠিন হয়ে পড়ে। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখতে অনেক পর্যটকও সেখানে ভিড় করেন। তাদের মুখেও ছিল হাসি, বিরক্তির কোনো ছাপ দেখা যায়নি। তারাও উৎসবের আবহে শামিল হন।
ব্যস্ত নিউইয়র্ক শহরের টাইমস স্কয়ার যেন পরিণত হয়েছিল এক টুকরো আর্জেন্টিনায়। তাই ‘আর্জেন্টাইমস স্কয়ার’ নামটিও যেন বাস্তব রূপ পেয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে এমন আয়োজন ছিল উৎসবমুখর।
এখন সবার চোখ মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালের দিকে। আর ট্রফি জিততে পারলে নিউইয়র্কজুড়ে আরও বড় উৎসবে মেতে ওঠার অপেক্ষায় আছেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা।