ফরিদপুরের মধুখালীতে এক শিল্পপতির বাড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে এসে মারা গেছেন মো. রহমত আলী (৪৩) নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা। তিনি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ম্যানেজার। তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।
রহমত আলী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার খাগালিয়া গ্রামের বাসিন্দা দেওয়ান আলীর ছেলে। তিনি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের নরসিংদী সদর উপজেলার একটি শাখার ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রীর নাম কাকন বেগম। তাদের ষষ্ঠ ও প্রথম শ্রেণিপড়ুয়া দুটি কন্যাসন্তান আছে। ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি নাসিরনগরে রওনা দিয়েছেন ওই ব্যাংক কর্মকর্তার স্বজন ও বন্ধুরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধুখালী উপজেলার আলতুখান জুট মিলস লিমিটেডের মালিক শিল্পপতি লোকমান হোসেনের বাসায় পরিচিত কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে রবিবার ঢাকা থেকে বেড়াতে আসেন রহমত আলী। সারা দিন ঘোরাঘুরি ও রাতে খাবারের পর তারা বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। বিশ্রাম নেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন রহমত। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
রহমত আলীর সঙ্গে ফরিদপুরে বেড়াতে আসা একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সবার সঙ্গে রহমত মদপান করেছিলেন। রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার বুকে ব্যথা ওঠে। তখন গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ দেওয়া হয়। বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।
মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আল আমীন বলেন, ‘রবিবার রাত ১০টা ৬ মিনিটে রহমত আলীকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এখানে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে।’
রহমত আলীকে মৃত অবস্থায় যখন মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়, তখন জরুরি বিভাগে কর্মরত ছিলেন চিকিৎসক জ্যোতি প্রকাশ। জ্যোতি প্রকাশ বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার আগে মৃত্যু হয়েছে। আমরা পালস, শ্বাস-প্রশ্বাস, হার্টবিট পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করি। তার পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর কারণ জানা সম্ভব নয়। লাশ নিয়ে যারা এসেছিলেন তারা জানিয়েছেন, তিনি সুস্থ-সবল ছিলেন। হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। এরপর মৃত্যু হয়েছে।’
আলতুখান জুট মিলস লিমিটেডের মালিক লোকমান হোসেন বলেন, ‘মোট আট জন রবিবার বিকালে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এর মধ্যে সোহান নামে একজন আমার পরিচিত। বাকি সাত জন সোহানের বন্ধু, যাদের আমি চিনি না। রবিবার রাতে রহমত আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।’
মো. সোহান সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ব্যবসায়িক সূত্রে লোকমান হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয়। সেই পরিচয়ের সূত্রে তিনি তার বন্ধুদের নিয়ে আলতুখান জুট মিলসহ মধুখালী উপজেলার বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখার জন্য এসেছিলেন। এর মধ্যে এমন ঘটনা ঘটলো। তিনি বলেন, ‘ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পথে আছি আমরা।’
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, ‘সুরতহাল করার সময় মৃতের মুখ থেকে কোনও গন্ধ পাওয়া যায়নি। তার শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। এ ব্যাপারে মধুখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর লাশ নিয়ে গেছেন নিহতের স্বজনরা। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’