জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবে এবার ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক ও ‘ভারী’ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বহু সামরিক ঘাটিকে লক্ষ্য করে বুধবারে এই শক্তিশালী হামলা চালানো হয়। খবর বিবিসি।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের তথ্য অনুযায়ী, হামলাটি স্থানীয় সময় রাত ৮টায় শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয়। সেন্টকম নিশ্চিত করেছে, লক্ষ্যবস্তু করা স্থানের মধ্যে ছিল ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নির্মাণ কারখানা, উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা এবং নৌ-ঘাঁটিগুলো।
হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমরা ওদের ওপর খুব শক্ত আঘাত হানতে যাচ্ছি, কারণ এবার আঘাত হানার পালা আমাদের। তারা জানে এটা আসছে এবং তারা আমাদের এটা না করতে অনুরোধও করেছিল।”
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইসরায়েল যখন ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধ ‘কয়েক সপ্তাহ’ স্থায়ী হবে বলে দাবি করেছিলেন। তবে পাঁচ মাস পার হয়ে গেলেও সংঘাত থামার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।
এর আগে ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছিল, তারা জর্ডানে মার্কিন বিমানঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ তোলে, হরমুজ প্রণালিতে সতর্কতা উপেক্ষা করে বেআইনি পথ ব্যবহার করায় তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারেও আইআরজিসি নৌবাহিনী আঘাত হেনেছে। তবে সেন্টকমের দাবি, ইরানের ছোড়া সবকটি ক্ষেপণাস্ত্রই আকাশে ধ্বংস (ইন্টারসেপ্ট) করা হয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল ইরান সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই। সম্প্রতি ইরাকে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের’ (পিএমএফ) ওপর মার্কিন ও সৌদি আরব বাহিনী যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে। পিএমএফ জানিয়েছে, যৌথ হামলায় তাদের অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
ইরাক সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরাক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই ওই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ খালিদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। কয়েক দিনের যুদ্ধবিরতি ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনার পর নতুন করে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরণের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।