বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর নেতারা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও রফতানি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতি, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনজনিত চ্যালেঞ্জ এবং এ খাতের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বিজিএমইএর নেতারা জানান, দেশের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সরাসরি তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। প্রায় ৩ হাজার উদ্যোক্তা এ শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত। দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও রফতানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এ শিল্প বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
বিজিএমইএর পক্ষ থেকে তৈরি পোশাক রফতানি বর্তমান পর্যায় থেকে ভবিষ্যতে ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের বিদ্যমান সমস্যার কথা শুনেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিরোধী দলের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনীয়তার অংশ হিসেবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন ও রফতানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বিজিএমইএর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
তৈরি পোশাকশিল্প দেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের অবদান রাখছে, বর্তমানে এ খাতের সমস্যাগুলো কী, সম্ভাবনাগুলো কোথায় এবং এসব সমস্যা সমাধানে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন—এসব বিষয়ে ধারণা নেওয়াই ছিল মতবিনিময় সভার মূল উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য তৈরি পোশাকশিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ খাতের সমস্যা সমাধানে সরকার, বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগ জনস্বার্থে হলে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী তাতে সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত বা উদ্যোগ নেওয়া হলে তার প্রতিবাদও করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থে ট্রেজারি বেঞ্চ ও বিরোধী দলের মধ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা থাকা উচিত। জ্বালানি সংকটসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
সভায় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিজিএমইএর নেতারা জানান, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে শিল্পের উৎপাদন আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মতবিনিময় সভায় বিজিএমইএর নেতারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। তারা বলেন, শিল্প ও অর্থনীতির স্বার্থে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপিসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএর পক্ষে সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, প্রথম সহসভাপতি সেলিম রহমান, সহসভাপতি মো. রেজওয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান, বিদিয়া অমৃত খান, মো. শেহাব উদ্দুজা চৌধুরী, মোহাম্মদ রফিক চৌধুরীসহ সংগঠনের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।