রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এর আগে ক্যাম্পাসের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে রংপুরের তাজহাট থানার ওসির কাছে ১৪৪ ধারা জারির অনুরোধ জানিয়ে লিখিত আবেদন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান।
প্রশাসনের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ আগস্ট ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন গুরুতরসহ অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। বর্তমানে গুরুতর আহতরা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে উভয় সংগঠন একই স্থানে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ায় সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে দুই সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, প্রদর্শনীতে থাকা একটি ব্যানারকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে হাতাহাতি এবং শেষ পর্যন্ত ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রদর্শনীতে থাকা একটি ব্যানার নিয়ে আপত্তি তোলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন এবং পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন। পরে প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে একপর্যায়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়।
ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আব্দুর রাকিব দাবি করেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তারা কর্মসূচির আয়োজন করেছিলেন। তাদের অভিযোগ, কর্মসূচি পণ্ড করতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে ছাত্রদলের নেতা ইয়ামিনের দাবি, প্রদর্শনীতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত কয়েকজন জামায়াত নেতার ছবি সংবলিত ব্যানার টানানো হয়েছিল। সেটি সরানোর দাবি জানালে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালায় এবং এতে তাদের কয়েকজন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. শওকাত আলী জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রয়েছে। বিকেলের কর্মসূচি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
(নিউজে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে ‘১৪৪ ধারা জারি হয়েছে’ বলে জানানো হয়েছিল। তবে প্রশাসন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করা হয়েছিল, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিউজটি সংশোধন করা হলো।)