ঢাকাThursday , 17 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্যানোপিতে যাত্রীর চেয়ে স্বজন বেশি, শাহজালালে শৃঙ্খলা ফিরবে কবে?


September 17, 2026 11:05 am
Link Copied!


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আগমনী ও বহির্গমন ক্যানোপিতে যাত্রী-স্বজনের ভিড়ে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। বিদেশগামী ও বিদেশফেরত যাত্রীদের সঙ্গে আসা হাজার হাজার স্বজনের উপস্থিতিতে এক ধরনের অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। আগমনী ক্যানোপি ১ ও ২-এর অবস্থা বলতে গেলে ভয়াবহ। দ্বিতীয় তলায় বহির্গমন এলাকাও যাত্রী-স্বজনে ঠাসা। এতে বিমানবন্দরের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরকারিভাবে বারবার নির্দেশনা দেওয়া হলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া নিয়ে প্রায়শই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় নিয়মিত যাত্রীদের। তবে বিমানবন্দরের তদারকি সংস্থা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমোডর আসিফ ইকবাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। কিন্তু এটাকে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দরের ভেতরের নিরাপত্তা দেখে এভসেক, এয়ারফোর্স ও আনসার সদস্যরা। এই সংস্থাগুলো সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে বেবিচক। কিন্তু এখানে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ বিমানবন্দরের বাইরের বিষয়গুলো দেখে। তাদের দায়িত্বই হলো বিমানবন্দরের বাইরের বিষয়গুলো দেখা কিন্তু সেটি যথাযথভাবে পালন না করার কারণে বিমানবন্দরে এত বেশি লোকজন ঢুকতে পারছে। বিষয়গুলো আমাদের নজরে আছে। আমরা চেষ্টা করছি এগুলো নিয়ন্ত্রণের।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৭ জুলাই ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত ও গমনকারী যাত্রীদের সঙ্গে সর্বোচ্চ দুই জন সঙ্গী প্রবেশ করতে পারবেন’ মর্মে নির্দেশনা জারি করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিমানবন্দর এলাকার ডিপারচার ড্রাইভওয়ে ও অ্যারাইভাল ক্যানোপিতে যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ দুই জন ব্যক্তি ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পাবেন। যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

ওই নির্দেশনায় আরও বলা হয়, বিমানবন্দর এলাকায় আগত সবাইকে সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল ও কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ঈদ, ছুটি বা শিক্ষাবর্ষ শেষে অভিভাবকসহ ভ্রমণপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের আগমনে বিমানবন্দরে বাড়তি ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এমন পরিস্থিতিতে যানজট ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের পদক্ষেপকে জরুরি বলছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রয়োজনে এই নিয়ম আরও কড়াকড়ি করা হতে পারে। এজন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়।

এছাড়াও গত ৬ আগস্ট বিমানবন্দর সম্পর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশকে যথাযথভাবে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের জন্য মন্ত্রী নির্দেশ দেন।

সরেজমিন বিমানবন্দর ঘুরে দেখা যায়, এই নির্দেশনার ছিটেফোঁটাও নেই। কিংবা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কেউ কাজ করছেন, এমনটিও চোখে পড়েনি। তবে এই বিধিনিষেধের কথা বিমানবন্দরে কর্মরত সব সংস্থার লোকজনই জানেন। তাদের সামনেই যাত্রীর সঙ্গে তিন থেকে চার জন কিংবা কখনও সাত থেকে আটকজন করেও স্বজন আসছেন। আগমনী যাত্রীর সঙ্গে ক্যানোপির ভেতরেই গাড়ি ভর্তি লোকজন উঠছেন। সবকিছুই হচ্ছে তাদের সামনেই। অথচ কেউ এ বিষয়ে কোনও কথা বলছেন না।

বহির্গমন ক্যানোপিতে কথা হয় আব্দুল আহাদ নামের এক যাত্রীর সঙ্গে। তিনি সৌদি আরব যাচ্ছেন। তাকে বিদায় জানাতে স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, মা, বাবার সঙ্গে এসেছেন আরও দুই প্রতিবেশী। একটি হায়েস গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে এসেছেন। বিধিনিষেধের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমরা এটা জানি না। কেউ আমাদের বলেনি। প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে বসে আছি। কেউ তো এ বিষয়েও কিছু বললোও না।’

একইভাবে আশরাফুল নামের আরেক যাত্রীর সঙ্গেও পাঁচ জন এসেছেন বিদায় জানাতে। বিধিনিষেধের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। যদি জানতাম, অবশ্যই নিয়ম মানতাম।’

আগমনী টার্মিনাল ১ ও ২-এর চিত্রও একই। ক্যানোপির ভেতরে লোকে ঠাসা। সেখানেই গাড়ি পার্কিং করে যাত্রীর সঙ্গে পাঁচ-ছয়জন করে উঠছেন। সবকিছুই হচ্ছে কর্তব্যরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই। কিন্তু কেউ কিছু বলছেন না।

দায়িত্বরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানে কেউ কোনও নিয়ম মানতে চায় না। যাত্রীর সঙ্গে দুই জনের বেশি আসা যাবে না; এটি আমরা জানি, কিন্তু বাস্তবায়ন করা অনেক কঠিন। লোকজনকে বললে তারা কোনও কথা শোনে না। আমরা চেষ্টা করেও লাভ হচ্ছে না। কিছু বললে যাত্রী ও তার স্বজনরা উল্টো হুমকি দেয়। আবার এটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেয়। এখানে আমরা কী করবো বলুন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এভাবেই যতটুকু পারা যায় আমরা শৃঙ্খলা রাখার চেষ্টা করছি। লোকজন সচেতন না হলে এ রকম নির্দেশনা বাস্তবায়ন কঠিন।’

দেশের বাইরে নিয়মিত যাতায়াত করা ওয়াহিদ খান নামের এক ব্যক্তি বলেন, যাওয়ার সময় প্রচণ্ড ভিড় থাকে। অবস্থা এমন যে ঠেলে ঢুকতে হয়। আবার যাত্রীর সঙ্গে স্বজনও ঢুকে যাচ্ছেন, এমন অবস্থাও তৈরি হয়। এ অবস্থা খুবই বাজে।

তিনি আরও বলেন, আসার সময় ক্যানোপির অবস্থা আরও ভয়াবহ। যাত্রীর স্বজনদের অবস্থা এমন যেন তারা জোর করে ভেতরে ঢুকে যাত্রীকে টেনে আনবেন।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই অবস্থা আমাদের জন্য দুঃখজনক। বাইরের দেশের যাত্রীরা আমাদের সম্পর্কে কেমন ধারণা পোষণ করেন সেটি পরিস্থিতি বলে দেয়।’

এদিকে বিষয়টি বিমানবন্দরের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি মনে করেন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। সবসময় এত লোক জমা হয়ে থাকে, যা নিরাপত্তাকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অধিনায়ক বশির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করি, আমরা তাদের বোঝাই। কিন্তু অনেক সময় লোকজন কথা শুনতে চায় না। তবে আমরা চেষ্টা করছি, বিষয়গুলো বন্ধুত্বসুলভ আচরণের মাধ্যমে তারা যেন একসঙ্গে দুইজনের বেশি ভেতরে প্রবেশ না করে।’

এ বিষয়ে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ক্যানোপির ভিতরে না আসার জন্য জনসাধারণকে প্রতিনিয়ত বলে যাচ্ছি। কিন্তু তারা কোনও কথা শুনতে চান না। তারপরও আমরা আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রাখছি। সবাইকে এ ব্যাপারে বলা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেরা সচেতন না হলে এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন।’





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html