ঢাকাTuesday , 15 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বললো—মা কালই দেশে ফিরবো, রাতে একসঙ্গে শেষ পুরো পরিবার


August 19, 2026 6:50 pm
Link Copied!


‘কাল রাতেও আমার সোনার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হলো। হাসতে হাসতে বললো, মা কালই দেশে ফিরবো। সবার সঙ্গে দেখা হবে। কত কেনাকাটা করেছে, সেগুলো দেখালো। এমন খবর শুনতে হবে ভাবিনি। প্রতিদিন একবার করে কথা হতো। এখন আমার সোনা কোথায় গেলো?’ কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলছিলেন কলকাতার আবাসিক হোটেলে আগুনে স্ত্রী-সন্তান ও শ্বশুরসহ নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের মা স্বপ্না দত্ত।

মৃত দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকা ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ছিলেন। এ ছাড়া তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত আজকের আলো পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। ওই ঘটনায় তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), ছেলে শর্ণশীষ দত্ত (৩) ও শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০) মারা গেছেন। চিকিৎসার জন্য ১৫ দিন আগে তারা ভারতের কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন। বুধবার তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু দেশে ফিরছেন লাশ হয়ে। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে আগুনে পুড়ে মারা যান দেবাশীষ দত্তসহ তার পুরো পরিবার।

মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ নয় জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার ওই চার জন ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট স্ত্রীকে নিয়ে কলকাতা যান দেবাশীষ। সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু যান তারা। পরে চিকিৎসা শেষে কলকাতায় ফেরেন। বুধবার সকালে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই রাতের আগুনে সব শেষ হয়ে যায়।

দেবাশীষের ভায়রা ফিরোজ হোসেন জানান, তিনি ও তার শ্বশুর আকরাম আলী চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষে তিনি গত সোমবার বিমানযোগে দেশে ফেরেন। তবে তার শ্বশুরসহ দেবাশীষের পরিবার কলকাতায় থেকে যায়। বুধবার তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল।

বাবা-মায়ের কাছে রেখে যান মেয়েকে

কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন দেবাশীষ। সেখানে তার মা-বাবা ও বড় মেয়ে দিবানীত দত্ত রয়েছে। ভারতে যাওয়ার সময় মেয়েকে দাদা-দাদির কাছে রেখে গিয়েছিলেন। এ কারণে প্রাণে বেঁচে গেছে শিশুটি।

বুধবার দুপুরে আড়ুয়াপাড়ার বাসায় গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। দেবাশীষের মা স্বপ্না দত্ত বিলাপ করছিলেন। স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বাবা-মা ও ভাইকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে বসে ছিল দিবানীত। তার চোখে তখনও পানি।

দেবাশীষের বাবা দিলীপ কুমার দত্ত বলেন, ‘সকালে বারবার ফোন করেও ছেলের কোনও সাড়া পাচ্ছিলাম না। পরে দেবাশীষের ভায়রা ফিরোজ হোসেনের ফোনে একজন বাংলাদেশি দূতাবাস কর্মকর্তা কথা বলেন এবং তাদের মৃত্যুর খবর জানান। এর আগে টেলিভিশনে দেখেছি কলকাতার হোটেলে আগুনে আট জন মারা গেছে। এর মধ্যে আমার সন্তানরা থাকবে, কখনও ভাবতে পারিনি।’

মৃত দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী ও সন্তান

দিলীপ কুমার আরও বলেন, ‘দেবাশীষ আমার একমাত্র সন্তান। সে পরিবারের খরচ চালাতো। আমাদের আয়ের একমাত্র অবলম্বন ছিল সে। প্রতি মাসে আমার ও তার মায়ের প্রায় ১০ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। এখন পরিবার কীভাবে চলবে। তার একমাত্র মেয়েটা মা-বাবা দুজনকেই হারালো। তাকে কীভাবে বড় করবো, সেটাও ভাবতে হচ্ছে।’ এ ঘটনার তদন্ত দাবি করে সরকারের সহযোগিতাও চান তিনি।

ফিরোজ হোসেন জানান, সকালে অনেকবার দেবাশীষের মোবাইলে ফোন করেও সাড়া পাননি। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা ফোনটি ধরেন এবং তাদের মৃত্যুর খবর জানান। তিনি জানান, তার ভিসা রয়েছে। পরিবারের পক্ষে মরদেহ গ্রহণ করতে তিনি বুধবার কলকাতার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে বৃহস্পতিবার মরদেহ নিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন বলে আশা করছেন।

পরিবার সূত্র জানিয়েছে, মরদেহ গ্রহণের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ফিরোজ হোসেন পরিবারের পক্ষে মরদেহ গ্রহণ করবেন।

দেবাশীষের মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিকদের মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আন্দোলনের বাজার পত্রিকার সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডাবলু বলেন, ‘দেবাশীষ ছিল সবার প্রিয় একজন মানুষ। সে আপাদমস্তক সাংবাদিক ছিল। তার ধ্যান-জ্ঞান ছিল সংবাদ নিয়ে। ভারতে যাওয়ার আগের দিনও আমার অফিসে এসেছিল। সকালে টেলিভিশনে দেখছিলাম কলকাতার হোটেলে আগুনে বাংলাদেশের আট জন মারা গেছেন। এর মধ্যে দেবাশীষ থাকবে, এটা কখনও ভাবিনি।’





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html