ঢাকাSaturday , 12 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নারীর অধিকার থেকে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন, স্টেইনেমের দীর্ঘ লড়াই

UttorbongoBD
September 6, 2026 6:45 pm
Link Copied!


নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম অগ্রপথিক, সাংবাদিক ও লেখক গ্লোরিয়া স্টেইনেম মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের নিজ বাড়িতে স্বজন ও প্রিয়জনদের উপস্থিতিতে তার মৃত্যু হয়।

স্টেইনেমের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি সমতার জন্য কাজ করে গেছেন। অন্যদের কথা মন দিয়ে শোনা এবং তাদের নিজেদের মতো করে প্রকাশের সুযোগ দেওয়াকে তার অন্যতম বড়ো শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবাদিকতা, বক্তৃতা ও সক্রিয় আন্দোলনের মাধ্যমে নারীবাদী চিন্তাকে মূলধারায় নিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন স্টেইনেম। তিনি নয়টি বই লিখেছেন। নারী নির্যাতন, নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতি, পর্নোগ্রাফি এবং ভিয়েতনাম ও উপসাগরীয় যুদ্ধের বিরুদ্ধে তিনি সক্রিয় ছিলেন। প্রজনন অধিকার, এলজিবিটিকিউ+ অধিকার, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার এবং টাইমস আপ আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

১৯৩৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে জন্মগ্রহণ করেন স্টেইনেম। শৈশবের একটি বড়ো সময় তিনি মায়ের সঙ্গে কাটান। ১৯৫৬ সালে নারী শিক্ষার একটি উদারপন্থী কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি দুই বছর ভারতে ছিলেন। সেখানে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আইনবিষয়ক কেরানি হিসেবে কাজ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সাংবাদিকতা শুরু করেন স্টেইনেম। ১৯৬৩ সালে প্লেবয় ক্লাবের কর্মীদের জীবন নিয়ে ছদ্মবেশে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেন। পরে নারীদের অধিকার ও প্রজনন স্বাধীনতা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লিখতে থাকেন।

১৯৬৯ সালে নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ‘আফটার ব্ল্যাক পাওয়ার, উইমেনস লিবারেশন’ প্রবন্ধ তাকে নারীবাদী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ করে তোলে। ১৯৭১ সালে ডরোথি পিটম্যান হিউজের সঙ্গে তিনি ‘এমএস’ ম্যাগাজিন প্রতিষ্ঠা করেন। পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদে ছিল ওয়ান্ডার ওম্যান।

নারী অধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি স্টেইনেম বর্ণবাদ ও শ্রেণিবৈষম্যের বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন। কৃষ্ণাঙ্গ নারীবাদীদের কাছ থেকে আন্দোলনের গুরুত্ব শেখার কথা তিনি বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছেন।

নারীর অধিকার থেকে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন, স্টেইনেমের দীর্ঘ লড়াই

তবে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও কিছু বক্তব্য নিয়ে বিতর্কও ছিল। ১৯৯৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনায় তাকে সমর্থন করায় সমালোচনার মুখে পড়েন। পরে তিনি বলেন, একই পরিস্থিতিতে এখন তিনি একই লেখা লিখতেন না। ট্রান্সজেন্ডার অধিকার নিয়েও তার পুরোনো বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক ছিল। পরে তিনি ট্রান্সজেন্ডার মানুষের অধিকারের পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করেন।

১৯৮৬ সালে স্টেইনেমের স্তন ক্যানসার ধরা পড়ে। ১৯৯৪ সালে তিনি ট্রাইজেমিনাল নিউরালজিয়ায় আক্রান্ত হন। দীর্ঘদিন বিয়ের বিরোধিতা করার পর ২০০০ সালে পরিবেশকর্মী ডেভিড বেলকে বিয়ে করেন। ২০০৩ সালে বেলের মৃত্যুর পর তার সৎছেলে অভিনেতা ক্রিশ্চিয়ান বেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় ছিল।

২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ওয়াশিংটনে আয়োজিত উইমেন’স মার্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন স্টেইনেম। জীবনের শেষ দিকেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০১১ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ১০০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে চাই। করার মতো অনেক কিছু আছে।’

৯২ বছর বয়সে তার মৃত্যু হলেও নারী অধিকার আন্দোলনে তার দীর্ঘ সাংবাদিকতা, লেখালেখি ও সক্রিয়তার প্রভাব বহুদিন স্মরণ করা হবে।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html