ঢাকাSaturday , 12 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জসীম উদ্‌দীন : অনুবাদের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা

UttorbongoBD
September 9, 2026 5:10 pm
Link Copied!


জসীম উদ্‌দীন বাংলা সাহিত্যের এমন এক বিরল ও অনন্য প্রতিভা, যিনি মাটির সোঁদাগন্ধে জড়ানো লোকজ আখ্যানকে বিশ্বজনীন রূপ দিয়েছেন। তার কবিতায় গ্রামবাংলার যে চিরন্তন, শাশ্বত ও সাদামাটা রূপ ফুটে উঠেছে, তা কেবল বাংলাভাষী পাঠকের হৃদয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি। দক্ষ অনুবাদকদের হাত ধরে পৌঁছে গেছে বিশ্বসাহিত্যের দরবারে। জসীম উদ্‌দীনের কবিতার ইংরেজি অনুবাদ নিয়ে আমাদের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার হিসেবটি তাই কেবল নিছক ভাষান্তরের বিষয় নয়। এটি মূলত এক সংস্কৃতির গূঢ় নির্যাসকে অন্য একটি ভিন্ন সংস্কৃতির আধারে সঞ্চারিত করার এক মহৎ ও জটিল মনস্তাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ।

জসীম উদ্‌দীনের মতো একজন আপাদমস্তক লোকজ কবির কবিতার অনুবাদ মূল্যায়ন করতে কতগুলো মৌলিক ও সংবেদনশীল মানদণ্ড বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রথমত আসে ‘আবেগীয় সমার্থকতা’। মূল কবিতাটি পাঠ করার পর একজন বাঙালি পাঠকের মনে যে হাহাকার, করুণ রস বা আনন্দের উদ্রেক হয়, অনূদিত পাঠও যেন একজন ইংরেজিভাষী বিদেশি পাঠকের মনে একই রকম ব্যঞ্জনা ও মানসিক আলোড়ন তৈরি করতে পারে। জসীম উদ্‌দীনের  ‘কবর’ বা ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ পড়ার সময় যে দীর্ঘশ্বাস তৈরি হয়, অনুবাদে তা বজায় রাখাই অনুবাদকের প্রধান সার্থকতা। দ্বিতীয়ত ‘সাংস্কৃতিক বিশ্বস্ততা’। কবির কবিতায় ব্যবহৃত গহিন গাঙ, হিজল-তালের বন, বাবুই পাখির বাসা কিংবা শাড়ির আঁচলের মতো নিখাদ দেশজ অনুষঙ্গগুলো ইংরেজি ভাষায় কতটুকু জীবন্ত ও অর্থবহ থাকছে, তা অনুবাদের গুণগত মান নির্ধারণ করে। সবশেষে ‘ছন্দ ও সুরের প্রবাহ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাংলার পল্লীগীতির সুর ও জারি-সারির তালই জসীম উদ্‌দীনের কবিতার প্রাণ। অনুবাদে সেই সুরের ঝঙ্কার কতটুকু রক্ষিত হচ্ছে এবং তা ইংরেজি কাব্যিক কাঠামোর সাথে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ উপায়ে মিশে যাচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করে অনুবাদের সার্বিক সার্থকতা।

জসীম উদ্‌দীনের কবিতার ইংরেজি অনুবাদের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ, গৌরবময় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এই গৌরবময় যাত্রার সূচনা হয়েছিল ১৯৩৯ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে ই. এম. মিলফোর্ড-এর হাত ধরে। তার অনুবাদে প্রকাশিত হয় ‘The Field of the Embroidered Quilt (নকশী কাঁথার মাঠ)। এই  অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ বিশ্বসাহিত্যের পাঠকদের প্রথম বুঝিয়েছিল যে, বাংলার নিভৃত পল্লীর সাজু ও রূপাইয়ের প্রেমকাহিনী গ্রিক ট্র্যাজেডি বা শেক্সপিয়রীয় বিয়োগান্তক নাটকের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। মিলফোর্ডের অনুবাদে আমরা দেখি এক ধরনের চমৎকার প্রাঞ্জলতা ও কাব্যিক নিষ্ঠা।  তিনি বাংলার লোকজ গাথাকে ইংরেজি কাব্যের ঢঙে সাবলীলভাবে বিন্যস্ত করেছেন। জসীম উদ্‌দীনের কবিতার এই প্রথম বৈশ্বিক অভিযাত্রা আমাদের সাহিত্যের ইতিহাসে অন্যতম বড়ো প্রাপ্তি। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে ইউনেস্কোর বিশেষ উদ্যোগে জসীম উদ্‌দীনের আরেকটি মাস্টারপিস ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’ অনূদিত হয় ‘Gypsy Wharf’ শিরোনামে। এটি যৌথভাবে অনুবাদ করেন বারবারা পেন্টার এবং কবি ইয়ান লাভলক। পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, অনুবাদকরা জসীম উদ্‌দীনের বর্ণনাত্মক কৌশলের প্রতি গভীরভাবে শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। সাজু-রূপাইয়ের পর সোজন-দুলীর বিয়োগান্তক প্রণয় ও দুই গ্রামের সামাজিক দ্বন্দ্বকে তারা ইংরেজি ভাষার গাম্ভীর্যের মধ্যে লোকজ সারল্য মিশিয়ে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে উপস্থাপন করেছেন। প্রাপ্তির তালিকায় আরও যুক্ত করা যায় হাসনা জসীম মউদদুদের অনবদ্য কাজ। তার সম্পাদিত ‘Selected Poems of Jasim Uddin’ সংকলনটি কবির সামগ্রিক কবিমানসকে বিদেশি পাঠকদের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে ‘আসমানী’ বা ‘আমার এই দেশেতে জন্ম’-এর মতো কবিতায় যে যতিচিহ্নহীন লোকজ ছন্দ ও অন্ত্যমিল রয়েছে, তা ইংরেজি ভাষার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মাঝেও অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে ‘The snake-charmer’s song’ (বেদের মেয়ে) কবিতায় তিনি যাযাবর বেদেনী জীবনের যে অকৃত্রিম চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, তা মূল কবিতার আত্মার খুব কাছাকাছি যেতে সক্ষম হয়েছে।

অনুবাদ কেবল এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় শব্দের রূপান্তর নয়। এটি মূলত সংস্কৃতির রূপান্তর। জসীম উদ্‌দীনের রচনার ক্ষেত্রে এই রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল। কারণ তার কবিতার ভিত্তি গড়ে উঠেছে বাংলার ভূপ্রকৃতি এবং অবহেলিত গ্রামীণ জীবনের দৈনন্দিন যাপনের ওপর। একজন অনুবাদককে এই আখ্যানগুলো অনুবাদ করতে গিয়ে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও বড়ো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। প্রথমত, জসীম উদ্‌দীনের কবিতায় এমন কিছু খাঁটি বাংলা লোকজ শব্দ আছে, যার কোনো সঠিক বা সমার্থক প্রতিশব্দ ইংরেজি অভিধানে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়—‘সোঁদা গন্ধ’, ‘বন-ঘুঘুর ডাক’, ‘পাউড়ি’, ‘হিজল বন’ বা ‘ছেঁড়া কাঁথা’। যখন এই শব্দগুলো যথাক্রমে ‘damp smell’, ‘dove’s cry’ বা ‘torn quilt’ হিসেবে আক্ষরিক অনুবাদে রূপান্তরিত হয়, তখন তার ভেতরের গূঢ় বাঙালি আবেগ, নস্টালজিয়া ও স্মৃতিকাতরতা পুরোপুরি ফিকে হয়ে যায়। ইংরেজি ভাষার আভিধানিক ও নগরকেন্দ্রিক কাঠামোয় বাংলার কাদা-মাটির আদিম নির্যাস, সোঁদা গন্ধের মনস্তাত্ত্বিক অনুভূতি ও নদীর জোয়ার-ভাটার টান ধারণ করা সবসময় সম্ভব হয় না।

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জটি হলো পল্লী-প্রকৃতির চিত্রকল্প ও সাংস্কৃতিক রূপকের অনুবাদ। ‘নকশী কাঁথার মাঠ’-এ শাড়ির আঁচল, বাঁশের বাঁশি, কলমীর দল, কিংবা ধানক্ষেতের ঢেউ কেবল প্রকৃতির বর্ণনা নয়, এগুলো গ্রামীণ মানুষের দুঃখ-সুখের সঙ্গী। পশ্চিমা বা ইংরেজিভাষী একজন পাঠকের কাছে ‘শাড়ির আঁচল’ কিংবা ‘লোটা-কম্বল’ কেবলই পোশাক বা পাত্রমাত্র; কিন্তু বাঙালি সংস্কৃতির কাছে শাড়ির আঁচল হলো মায়ের মমতা বা প্রিয়ার লজ্জার প্রতীক। এই সাংস্কৃতিক রূপকগুলোকে ইংরেজি ভাষায় রূপান্তর করতে গেলে অনেক সময় মূল ভাবটি হালকা হয়ে যায়। অথবা অতিরিক্ত ব্যাখ্যার কারণে কবিতার নান্দনিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়।

তৃতীয়ত, জসীম উদ্‌দীনের কবিতার সবচেয়ে বড়ো শক্তি হলো অন্তর্নিহিত সংগীতময়তা। কবি মূলত জারি, সারি, ও ভাটিয়ালি গানের সুরকে কবিতার ছন্দে গেঁথেছিলেন। বাংলা ভাষার মাত্রাবৃত্ত বা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের যে লিরিকধর্মী সহজ প্রবাহ জসীম উদ্‌দীনের কবিতায় পাওয়া যায়, তা ইংরেজি ভাষার আধুনিক ছন্দে রূপান্তর করা প্রায় অসম্ভব। অনুবাদে যখন সেই সুর হারিয়ে কেবল তথ্যের শুষ্ক অনুবাদটুকু টিকে থাকে, তখন কবিতার প্রাণস্পন্দন স্তিমিত হয়ে পড়ে। চতুর্থত, ‘কবর’ কবিতার মতো রচনায় নিবিড় করুণ রসের সঞ্চারণ করা অনুবাদকদের জন্য এক বিরাট মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা। এই কবিতার বিখ্যাত লাইন— “এইখানে তোর দাদীর কবর ডালিম-গাছের তলে, ত্রিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে”—যখন বার্নার্ড মেটকাফ ‘Graves’ শিরোনামে অনুবাদ করেন, সেখানে দাদুর স্মৃতিচারণা ও শোকের আবহটি ফুটে উঠলেও গ্রামীণ মানুষের সরল ভক্তি, নিয়তিবাদ এবং দুঃখকে বরণ করে নেওয়ার যে মানসিকতা, তা পশ্চিমা যুক্তিবাদী ইংরেজি ভাষায় পুরোপুরি ধারণ করা মুশকিল হয়ে পড়ে।

বর্তমান প্রজন্মে জসীম উদ্‌দীনের কবিতার প্রসারে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল আর্কাইভগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক ভূমিকা পালন করছে। ‘PoemHunter’ বা ‘Skylark Education’-এর মতো আন্তর্জাতিক পোর্টালে ই. এম. মিলফোর্ডের কালজয়ী কাজের পাশাপাশি কবির নির্বাচিত কিছু কবিতার আধুনিক ইংরেজি রূপান্তর এখন সহজলভ্য। এর পাশাপাশি বার্নার্ড মেটকাফ এবং মেরি ল্যাগো-এর মতো পণ্ডিতরা জসীম উদ্‌দীনের কবিতাকে পশ্চিমের অ্যাকাডেমিক মহলে ও তুলনামূলক সাহিত্য আলোচনায় নতুন করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তাদের গবেষণার ফলে পাশ্চাত্যের পাঠকেরা বুঝতে পারছেন যে, লোকজ সাহিত্যও কতটা বিশ্বমানের হতে পারে। বর্তমানে ‘E-books of Jasimuddin’ বা বিভিন্ন ই-লাইব্রেরি সুলভ হচ্ছে, যা নতুন প্রজন্মের বিশ্বব্যাপী গবেষক ও অনুবাদকদের জন্য বড়ো প্রাপ্তি। তবে এই ডিজিটাল কাজগুলোতে অনেক সময় মানসম্পন্ন সম্পাদনা ও সঠিক বানানের অভাব পরিলক্ষিত হয়। মূল অনুবাদের কাব্যিক সুষমা অনেক সময় যান্ত্রিক রূপান্তরের কারণে ব্যাহত হয়, যা ভবিষ্যতে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

জসীম উদ্‌দীনের কবিতার ইংরেজি অনুবাদ বাংলা সাহিত্যের জন্য এক বিশাল সমৃদ্ধি ও গর্বের বিষয়। যদিও বাংলা ভাষার লোকজ শব্দার্থ, প্রবাদ-প্রবচন এবং ভাবের যে প্রাচুর্য, তার সবটুকু ইংরেজি প্রতিশব্দে হুবহু ধরা প্রায় অসম্ভব। মিলফোর্ড থেকে হাসনা মউদদুদ পর্যন্ত সমস্ত অনুবাদকই কবির মাটির টানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নিপুণভাবে তা ফুটিয়ে তুলেছেন—এটাই আমাদের বড়ো প্রাপ্তি। অনুবাদে আমাদের আগামী দিনের প্রত্যাশা হলো এমন এক ‘পুনর্সৃজন’, যেখানে অনুবাদক কেবল শব্দের আক্ষরিক অনুবাদ করবেন না; জসীম উদ্‌দীনের পল্লীজীবন, গ্রামীণ আবহ ও দর্শনকে ইংরেজি শব্দ বিন্যাসে নতুন করে পুনর্নির্মাণ করবেন। ই. এম. মিলফোর্ড তার অনুবাদে এই সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছিলেন বলেই তা আজও বিশ্বসাহিত্যে টিকে আছে। আমরা চাই ভবিষ্যতে এমন অনুবাদ হোক, যেখানে ‘নকশী কাঁথা’ কেবল একটি চাদর বা ‘quilt’ হিসেবে নয়—এক গ্রামীণ নারীর হৃদয়ের দীর্ঘশ্বাস, বিরহ ও শিল্পের জীবন্ত দলিল হিসেবে ইংরেজি কাব্য পাঠকদের সামনে প্রতিভাত হবে।

ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মের অনুবাদকদের কাছে আমাদের মূল প্রত্যাশা—তারা যেন কেবল অক্ষরকে নয়, অক্ষরের ভেতরের বিষাদসিন্ধু, মাটির গন্ধ ও গ্রামীণ জীবনবোধকে অনুবাদ করেন। জসীম উদ্‌দীন যেমন মাটির কবি, তার অনুবাদও যেন মাটির আদিম নির্যাসটুকুকে অক্ষুণ্ণ রেখে বিশ্বসাহিত্যের অবিনশ্বর অংশ হয়ে থাকে। জসীম উদ্‌দীন কেবল বাংলাদেশের নন, তিনি এখন সারা বিশ্বের। আর এই বিশ্বায়নের পথে তার প্রধান বাহনই হলো শক্তিশালী, শৈল্পিক, সৃজনশীল ও সংবেদনশীল অনুবাদ। পল্লীকবির বিষাদময় বাঁশির সুর যেন ইংরেজি ভাষার নিখুঁত ও দরদী রূপান্তরের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয়ে বেজে ওঠে—এই হোক আমাদের আগামী দিনের লক্ষ্য। কবির মাটির আভিজাত্য যেন বিশ্বসাহিত্যের দরবারে আরও হৃদয়স্পর্শী ঢঙে উপস্থাপিত হয়, তবেই একজন পল্লীকবি থেকে তিনি পূর্ণাঙ্গরূপে আন্তর্জাতিক বিশ্বকবিতে রূপান্তরিত হবেন। জসীম উদ্‌দীনের অনুবাদ মানে বাঙালির অন্তরাত্মার বিশ্বজনীন বহিঃপ্রকাশ। এই মহৎ কর্মযজ্ঞে নতুন প্রজন্মের সৃজনশীল অনুবাদকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আমাদের এই প্রত্যাশাকে আরও বেগবান করবে।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html