ত্বকে কালচে দাগ বা ছোপ দেখা দিলে অনেকেই দামি প্রসাধনীর দিকে ছুটে যান। তবে বলিউড অভিনেত্রী অথিয়া শেট্টীর পছন্দ ছিল ঘরোয়া একটি উপায়। ত্বকের পিগমেন্টেশনের সমস্যা দেখা দেওয়ার পর নিয়মিত রূপচর্চায় তিনি ব্যবহার করতেন চালের মাড় বা চাল ধোয়া পানি।
এক পডকাস্টে নিজের ত্বকের যত্নের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে অথিয়া বলেন, মুখে কালচে দাগ দেখা দেওয়ার সময় তিনি চালের পানি ব্যবহার করতেন। পরিষ্কার পাত্রে রেখে ঠান্ডা করে সেটি মুখে লাগাতেন। তাঁর অভিজ্ঞতায় এতে ত্বকের অবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে পেয়েছিলেন।
চাল ধোয়া বা ভিজিয়ে রাখা পানিতে চালের কিছু স্টার্চ ও অন্যান্য উপাদান মিশে যায়। ঘরোয়া রূপচর্চায় দীর্ঘদিন ধরে এই পানি ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। ত্বককে সাময়িকভাবে আরাম দেওয়া বা শুষ্কভাব কমাতে এটি কিছু মানুষের কাছে উপকারী মনে হতে পারে।
তবে চালের পানি ব্যবহার করলেই মুখের কালচে দাগ স্থায়ীভাবে দূর হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। পিগমেন্টেশনের পেছনে রোদে অতিরিক্ত থাকা, হরমোনের পরিবর্তন, ব্রণের পরের দাগসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই সমস্যার কারণ না জেনে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
চালের পানি ত্বকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় সাধারণ তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া পানি ত্বকে ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে ফারমেন্ট করা বা অনেকক্ষণ সংরক্ষণ করা চালের পানি ব্যবহারে জীবাণু জন্মানোর ঝুঁকি থাকতে পারে।
ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে অল্প পরিমাণ লাগিয়ে দেখে নেওয়া যেতে পারে। জ্বালা, চুলকানি, লালচে ভাব বা অন্য কোনো অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
পিগমেন্টেশন কমানোর চেষ্টা করলে শুধু কোনও ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়। রোদে বের হওয়ার সময় ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি। নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, ছাতা বা প্রয়োজন অনুযায়ী মুখ ঢাকার ব্যবস্থা দাগ আরও গাঢ় হওয়া ঠেকাতে সাহায্য করতে পারে।
অথিয়ার এই ঘরোয়া রূপচর্চা তাই অনুসরণ করার আগে নিজের ত্বকের ধরন ও সমস্যার কারণ বিবেচনা করা দরকার। কারও ত্বকে যে উপাদান ভালো মানায়, অন্যের ত্বকে সেটিই আবার অস্বস্তির কারণ হতে পারে। দীর্ঘদিনের পিগমেন্টেশন, দ্রুত বাড়তে থাকা দাগ বা ত্বকে অন্য কোনও পরিবর্তন দেখা দিলে ঘরোয়া টোটকার বদলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।