ঢাকাTuesday , 15 September 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: পোশাক খাতে অর্ধেক কমেছে উৎপাদন


September 15, 2026 8:10 pm
Link Copied!


গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশের নিটিং, ডাইং ও তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন বড় ধরনের ধাক্কা খাচ্ছে। কোথাও উৎপাদন কমে গেছে এক-তৃতীয়াংশ, কোথাও অর্ধেকের কাছাকাছি। একইসঙ্গে বাড়ছে বিকল্প জ্বালানির খরচ, অপচয় হচ্ছে শ্রমঘণ্টা, পিছিয়ে যাচ্ছে পণ্য সরবরাহের সময়সূচি। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখা নিয়ে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন—বিকেএমইএর সক্রিয় সদস্য কারখানার প্রায় ২০ শতাংশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এক সারসংক্ষেপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

জরিপে অংশ নেওয়া কারখানাগুলোর বড় অংশ নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও ঢাকা এলাকার। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৬ শতাংশ, গাজীপুর থেকে প্রায় ২০ শতাংশ, চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ১৮ শতাংশ এবং ঢাকা থেকে প্রায় ১৩ শতাংশ সাড়া এসেছে। অন্যান্য এলাকা থেকে এসেছে প্রায় ৩ শতাংশ উত্তর।

অর্থাৎ দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতেই সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে। এসব এলাকায় পোশাক ও নিটওয়্যার কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সরাসরি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় জ্বালানি সংকটের প্রভাব দ্রুত উৎপাদন, শ্রমঘণ্টা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ছে।

বিদ্যুৎ সংকটে প্রায় ৯০ শতাংশ কারখানা

জরিপের তথ্য বলছে, বিদ্যুৎ সংকটই এখন সবচেয়ে বিস্তৃত সমস্যা। অংশ নেওয়া কারখানাগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশ জানিয়েছে— বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

গ্যাস সংকটেও কমবেশি একই ধরনের চাপ রয়েছে। প্রায় ৭৫ শতাংশ কারখানা গ্যাসের স্বল্পতার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য সংকটের কথা জানিয়েছে প্রায় ১৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ— একজন উত্তরদাতা একাধিক কারণ উল্লেখ করতে পেরেছেন। ফলে এসব শতাংশ যোগ করলে ১০০ শতাংশের বেশি হবে। অর্থাৎ একই কারখানা একইসঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস— দুই সংকটেই পড়েছে।

শিল্প-সংশ্লিষ্টদের জন্য এটাই এখন বড় সমস্যা। একটি কারখানায় গ্যাস থাকলেও যদি বিদ্যুৎ না থাকে, উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা যায় না। আবার বিদ্যুৎ থাকলেও গ্যাসচালিত বয়লার, ডাইং বা অন্যান্য উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল না থাকলে উৎপাদন আটকে যায়। ফলে দুই ধরনের সংকট একসঙ্গে তৈরি হলে ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে যায়।

স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহ কমেছে ৭৮ শতাংশ

গ্যাস সংকটের তীব্রতার যে চিত্র জরিপে পাওয়া গেছে, তা আরও উদ্বেগজনক। যেসব কারখানা তাদের গ্যাসের চাপ বা পিএসআইয়ের তথ্য জানিয়েছে, তাদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় বর্তমান সরবরাহে গড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ ঘাটতি বা হ্রাস রয়েছে।

অর্থাৎ যে পরিমাণ গ্যাস পেলে কারখানাগুলো স্বাভাবিক উৎপাদন চালাতে পারতো, তার তুলনায় সরবরাহ নেমে এসেছে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বয়লার, ডাইং, ফিনিশিংসহ গ্যাসনির্ভর উৎপাদন প্রক্রিয়ায়।

বিশেষ করে ডাইং কারখানায় গ্যাসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে তাপ ও বাষ্পের প্রয়োজন হয়। গ্যাসের চাপ কমে গেলে যন্ত্রপাতি স্বাভাবিক সক্ষমতায় চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে উৎপাদন কমানোর পাশাপাশি অনেক সময় ব্যাচ শেষ করতেও বেশি সময় লাগে।

তিনগুণ বিদ্যুৎ বিভ্রাট

শুধু গ্যাস নয়, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিও শিল্পের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান দৈনিক লোডশেডিংয়ের সময়ের তথ্য দিয়েছে, তাদের হিসাবে আগের তুলনায় বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় গড়ে প্রায় ২০০ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ আগের সময়ের তুলনায় বিদ্যুৎ না থাকার সময় প্রায় তিনগুণ হয়েছে।

একটি রফতানিমুখী কারখানায় উৎপাদনের সময়সূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্ডার উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, প্যাকিং ও জাহাজীকরণ করতে হয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়ে গেলে শুধু কয়েক ঘণ্টার উৎপাদন কমে না— পুরো উৎপাদন পরিকল্পনাই এলোমেলো হয়ে যায়।

একটি লাইনে উৎপাদন বন্ধ হলে পরবর্তী ধাপেও তার প্রভাব পড়ে। ফলে বিদ্যুৎ ফিরে আসার পরও আগের অবস্থায় ফিরতে সময় লাগে। এতে শ্রমঘণ্টার পাশাপাশি যন্ত্রপাতির কার্যকর ব্যবহারও কমে যায়।

নিটিংয়ে উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩৮ শতাংশ

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে উৎপাদনের ওপর। জরিপে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের তুলনায় নিটিং উৎপাদন গড়ে প্রায় ৩৭ থেকে ৩৮ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ কাপড় তৈরি করা সম্ভব হতো, সংকটের কারণে তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

নিটিংয়ের পরবর্তী ধাপ ডাইং ও তৈরি পোশাক উৎপাদন হওয়ায় এর প্রভাব পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়ে। একটি পর্যায়ে উৎপাদন কমে গেলে পরবর্তী পর্যায়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বা কাপড়ের সরবরাহও কমে যায়।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা ডাইংয়ে

উৎপাদন কমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ডাইং খাত। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগের তুলনায় ডাইং উৎপাদন গড়ে প্রায় ৫১ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ স্বাভাবিক উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে এসেছে অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম।

এর কারণও পরিষ্কার। ডাইং প্রক্রিয়ায় গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ প্রয়োজন। গ্যাসের চাপ কমে গেলে কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা ও বাষ্প তৈরি করা কঠিন হয়। অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে মেশিন চালানো সম্ভব হয় না। দুই সংকট একসঙ্গে থাকলে উৎপাদন সক্ষমতা দ্রুত কমে যায়।

ফলে ডাইংয়ের উৎপাদন কমার প্রভাব শুধু ওই কারখানাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে যুক্ত নিটিং, গার্মেন্টস ও রফতানি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়ে।

পোশাক তৈরির উৎপাদন কমেছে ৪০ শতাংশ

সেলাই বা গার্মেন্টস উৎপাদনেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া কারখানাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগের তুলনায় গার্মেন্টস উৎপাদন গড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে।

ফলে একটি কারখানার অর্ডার হাতে থাকলেও তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। উৎপাদনের সক্ষমতা কমার পাশাপাশি কর্মঘণ্টার ব্যবহারও কমছে। আবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্ডার শেষ করতে গিয়ে কোনও কোনও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচও করতে হচ্ছে।

বিকল্প জ্বালানিতে বাড়তি খরচ ৯২ শতাংশের

সংকট সামাল দিতে কারখানাগুলোকে শুধু উৎপাদন কমিয়েই বসে থাকতে হচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠান বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করছে। জরিপে প্রায় ৯২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সংকটের কারণে তাদের বিকল্প জ্বালানির অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়েছে।

অর্থাৎ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার ক্ষতি সামাল দিতে কারখানাগুলোকে বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে, কিন্তু সেই বাড়তি খরচ সব সময় ক্রেতার কাছ থেকে আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না।

রফতানিমুখী পোশাক খাতে এটি বড় সমস্যা। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে একই ধরনের পণ্যের জন্য প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে মূল্য প্রতিযোগিতা করতে হয়। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও ক্রেতাকে বেশি দাম দিতে রাজি করানো সহজ নয়।

শ্রমঘণ্টার অপচয়ও প্রায় সর্বত্র

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের আরেকটি বড় ক্ষতি হচ্ছে শ্রমঘণ্টার অপচয়। জরিপে প্রায় ৯২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান শ্রমঘণ্টা বা কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার কথা জানিয়েছে। কারখানায় শ্রমিক উপস্থিত থাকলেও যদি বিদ্যুৎ বা গ্যাসের অভাবে মেশিন না চলে, তাহলে সেই শ্রমঘণ্টা কার্যত উৎপাদনশীল থাকে না।

এতে একদিকে শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে সেই সময়ের বিপরীতে প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ একই সঙ্গে খরচ বাড়ছে এবং উৎপাদন কমছে। এ ধরনের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কারখানার মুনাফার ওপর চাপ আরও বাড়বে।

শিপমেন্ট বিলম্বের ঝুঁকিতে ৮৭ শতাংশ

উৎপাদন কমার সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক প্রভাব পড়ছে পণ্য সরবরাহের সময়সূচিতে। জরিপে প্রায় ৮৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সংকটের কারণে তাদের শিপমেন্টে বিলম্ব হয়েছে।

রফতানি ব্যবসায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিদেশি ক্রেতা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য হাতে পাওয়ার ওপর নির্ভর করে তাদের নিজস্ব ব্যবসায়িক পরিকল্পনা সাজায়। একটি চালান সময়মতো না পৌঁছালে ক্রেতার পরবর্তী উৎপাদন, বিপণন বা দোকানে পণ্য সরবরাহের পরিকল্পনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ফলে একবার সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থতা তৈরি হলে শুধু একটি অর্ডার নয়, ভবিষ্যৎ অর্ডারের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

ক্রেতার আস্থা হারানোর শঙ্কা ৮৯ শতাংশের

এই জায়গাতেই সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জরিপে প্রায় ৮৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা ক্রেতার আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

এটি সরাসরি পরিমাপযোগ্য উৎপাদন ক্ষতির চেয়েও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি করতে পারে। কারণ একটি কারখানার উৎপাদন এক মাস কমে গেলে পরবর্তী সময়ে তা বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু বিদেশি ক্রেতার আস্থা নষ্ট হলে সেই ক্রেতাকে ধরে রাখা বা নতুন অর্ডার পাওয়া অনেক কঠিন হতে পারে।

বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা মূলত দাম, মান ও সময়মতো সরবরাহ— এই তিন বিষয়ের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট যদি নিয়মিতভাবে সরবরাহের সময়সূচি নষ্ট করে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

আংশিক বন্ধ হয়েছে ৭৮ শতাংশ কারখানার উৎপাদন

সংকটের কারণে প্রায় ৭৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন আংশিক বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। অর্থাৎ বেশির ভাগ কারখানাই পুরোপুরি বন্ধ না হলেও স্বাভাবিক সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

এটি শিল্পের জন্য এক ধরনের ‘নীরব ক্ষতি’। বাইরে থেকে কারখানা চালু দেখা গেলেও ভেতরে উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। শ্রমিক, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো থাকার পরও জ্বালানি সংকটের কারণে সেগুলোর পুরোপুরি ব্যবহার হচ্ছে না।

তবে আরও গুরুতর বিষয় হলো, প্রায় ৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।

ক্রেতাকে মূল্যছাড় দিতে হচ্ছে

সংকটের আর্থিক চাপ সামলাতে গিয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ক্রেতাকে মূল্যছাড় দিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে। এখানে মূল সমস্যা হলো— উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে পণ্যের দাম বাড়ানো যাচ্ছে না। বরং সময়মতো সরবরাহ করতে না পারা বা অর্ডার ধরে রাখার জন্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে কম দামে পণ্য দিতে হচ্ছে।

ফলে একদিকে বিকল্প জ্বালানিতে ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে বিক্রয়মূল্য কমছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রতিষ্ঠানের মুনাফায়।

ব্যাংক ঋণ খেলাপির ঝুঁকিতেও ৫৯ শতাংশ

উৎপাদন ও বিক্রয় কমার সঙ্গে সঙ্গে নগদ অর্থের প্রবাহেও চাপ তৈরি হচ্ছে। জরিপে প্রায় ৫৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা ব্যাংক ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। কারখানার নিয়মিত খরচ— শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিল, কাঁচামাল, পরিবহন ও ব্যাংক ঋণের কিস্তি—চলতেই থাকে। কিন্তু উৎপাদন কমে গেলে এবং শিপমেন্ট পিছিয়ে গেলে সেই অনুযায়ী অর্থপ্রবাহ আসে না।

ফলে ব্যাংকের দায় পরিশোধে চাপ তৈরি হয়। সংকট দীর্ঘায়িত হলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি অংশ শেষ পর্যন্ত ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হতে পারে।

রফতানি আদেশ কমেছে বা বাতিল হয়েছে ৫৫ শতাংশের

সবচেয়ে উদ্বেগজনক দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের আরেকটি দিক হচ্ছে রপ্তানি আদেশ। জরিপে প্রায় ৫৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তাদের রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে অথবা কমেছে। এর অর্থ হলো, জ্বালানি সংকট এখন শুধু বর্তমান উৎপাদনকে প্রভাবিত করছে না; ভবিষ্যৎ ব্যবসার ওপরও তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

কোনও ক্রেতা যদি বারবার সময়মতো পণ্য না পান, তাহলে তিনি বিকল্প দেশ বা সরবরাহকারীর কাছে যেতে পারেন। ফলে একটি অর্ডার হারানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে বাজার হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হয়।

সংকটের মূল চিত্র: উৎপাদন কমছে, খরচ বাড়ছে

বিকেএমইএর সক্রিয় সদস্য কারখানার প্রায় এক-পঞ্চমাংশের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই সারসংক্ষেপ থেকে মোটামুটি একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।

একদিকে প্রায় ৯০ শতাংশ কারখানা বিদ্যুৎ সংকটে এবং ৭৫ শতাংশ গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে গ্যাস সরবরাহে স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় গড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ ঘাটতি এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় আগের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এর ফল হিসেবে নিটিং উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩৮ শতাংশ, গার্মেন্টস উৎপাদন ৪০ শতাংশ এবং ডাইং উৎপাদন প্রায় ৫১ শতাংশ।

অর্থাৎ সংকটের প্রভাব এখন আর শুধু ‘জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না’ পর্যায়ে নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উৎপাদন কমে যাওয়া, শ্রমঘণ্টার অপচয়, বিকল্প জ্বালানির বাড়তি খরচ, শিপমেন্ট বিলম্ব, ক্রেতার আস্থা হারানোর ঝুঁকি, মূল্যছাড়, রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া এবং ব্যাংক ঋণ পরিশোধে চাপ।

এ প্রসঙ্গে বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘এখন পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহে কোনও উন্নতি হয়নি। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশের নিটিং, ডাইং ও তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন বড় ধরনের ধাক্কা খাচ্ছে। পরিস্থিতি এখনও আগের মতোই সংকটাপন্ন।’’

তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে আজ (মঙ্গলবার) রাতের পর থেকে শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ার কথা। আমরা আশা করছি, এর ফলে আগামীকাল থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।’’





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html