বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বর্তমানে প্রায় সবার ঘরেই ব্যবহৃত হচ্ছে এলইডি বাল্ব। তবে লন্ডনের একদল গবেষক সম্প্রতি এই জনপ্রিয় আলোর উৎসে এমন এক স্বাস্থ্যঝুঁকির সন্ধান পেয়েছেন, যা নিয়ে ভাবার প্রয়োজন হতে পারে চোখের স্বাস্থ্য সচেতনদের।
গবেষকরা জানাচ্ছেন, এলইডি বাল্বের আলোতে সাধারণত নীল আলোর পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক সূর্যের আলো কিংবা পুরোনো দিনের ফিলামেন্ট বাল্বে থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ লাল ও ইনফ্রারেড আলো যা এলইডি বাল্বে অনেকটাই কম।
গবেষণা অনুযায়ী, লাল আলো মানবদেহের কোষের শক্তিকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত মাইটোকন্ড্রিয়াকে সক্রিয় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এলইডি আলোতে এই নির্দিষ্ট ধরনের লাল আলোর ঘাটতি থাকায় দীর্ঘমেয়াদে চোখের রেটিনার কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।
গবেষণার অংশ হিসেবে ২২ জন অংশগ্রহণকারীকে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে লাল ও ইনফ্রারেড আলোর সংস্পর্শে রাখা হয়। এই স্বল্প সময়েই লক্ষণীয় পরিবর্তন দেখা যায় অংশগ্রহণকারীদের সূক্ষ্ম রঙ শনাক্তকরণ ক্ষমতা প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন, এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক মানুষের ওপর পরিচালিত হয়েছে। ফলে এলইডি আলো প্রকৃতপক্ষে চোখের জন্য কতটা ক্ষতিকর এবং দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব কী হতে পারে, তা নিশ্চিতভাবে জানতে আরও ব্যাপক পরিসরে গবেষণা চালানো প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নতুন এই গবেষণার ফলাফল প্রাথমিক হলেও দৈনন্দিন জীবনে আলোর ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানো এবং পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলোর সংস্পর্শে থাকার গুরুত্ব একে আরও বেশি প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।