হুথিদের হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হুমকি-পাল্টা হুমকি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তিতে না এলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হবে অথবা দেশটির নেতৃত্ব মুছে দেওয়া হবে। অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নতুন কোনও হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
এক প্রতিবেদকের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প ইরানের নেতাদের চুক্তিতে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হওয়া বা নেতৃত্ব হারানোর হুমকি দেন তিনি। তবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চলতি সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে এলে তার সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প আগ্রহী বলেও জানা যায়।
ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, নতুন কোনও হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্বার্থের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা চালানো হবে। ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্রদেরও সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে সতর্ক করেছে তারা। একই সঙ্গে নতুন হামলার প্রস্তুতির বিষয়ে তথ্য পাওয়ার দাবিও করেছে ইরান, তবে বিস্তারিত জানায়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জেরে উপসাগরীয় দেশগুলোর পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়েছে। শনিবার ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
ভিডিওতে রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের পর কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা গেছে। সৌদি আরব হামলার বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা দেশটির ওপর আরও কয়েকটি হামলা প্রতিহত করেছে। হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতির ফলে সৌদি আরবকে ইয়েমেনে তাদের অবস্থান ঠেকাতে বিমান হামলা চালানো অব্যাহত রাখা, নাকি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় ড্রোন হামলা এড়াতে পিছু হটা- এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে।
ইয়েমেনের উপকূলীয় এলাকায় হুথিদের অগ্রগতির ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও সহজ হয়েছে। এতে লোহিত সাগর ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী জাহাজের ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেয়েছে গোষ্ঠীটি। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রফতানি বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ দেশটির তেল রফতানিতেও বাধা দিচ্ছে। এতে ইরানের অর্থনীতিতে চাপ আরও বাড়ছে। জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি জুলাইয়ে শর্ত নিয়ে বিরোধের জেরে ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে সেই চুক্তিতে ফেরারও তেমন কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
রবিবার ইরান আবারও জানিয়ে দিয়েছে, জুনের চুক্তির শর্ত তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলবে না। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, শত্রুদের প্রতিহত করা ও অর্জনগুলো কূটনীতির মাধ্যমে সুসংহত করতে ইরানকে লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।