সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার একটি মসজিদের ভেতরে চেয়ার ও সোফা বসিয়ে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের একটি কর্মসূচি পালনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির নেতাদের দাবি, এটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না; মসজিদ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল।
গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ঘটনার দুই দিন পর সোমবার সকালে অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বকেয়া অর্থ পরিশোধে সহযোগিতা চেয়ে সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরে মসজিদের ভেতরে চেয়ার ও সোফা বসিয়ে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করা হয়।
মসজিদের ভেতরে এ ধরনের আয়োজনের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন অনেকে। কেউ কেউ মসজিদের ভেতরে এ ধরনের সভা আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, ‘আয়নুল হক এমপির নিজ ইউনিয়ন চান্দাইকোনার কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া রয়েছে। এ বিষয়ে সহযোগিতা চাইতে তারা এমপি সাহেবসহ আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখি, মাদ্রাসা ও মসজিদের ভেতরে সোফা ও চেয়ার বসিয়ে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেহেতু এটি কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, তাই আমরা আপত্তি না করে তাদের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নিই।’
শামসুল ইসলামের দাবি, অনুষ্ঠানে মসজিদ ও মাদ্রাসার উন্নয়ন এবং ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মসজিদ ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আয়োজনেই অনুষ্ঠানটি হয়েছে বলে দাবি করেছেন উপস্থিত বিএনপি নেতারা। তবে মসজিদের ভেতরে চেয়ার-সোফা বসিয়ে সভা আয়োজনের ছবি ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি।