আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে একটি স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক অভিযানের জন্য প্রস্তুত থাকতে বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় আরব দেশকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যানেলের মাধ্যমে দেওয়া এই সতর্কতায় ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, তেহরানকে দুর্বল করতে এবং আলোচনায় বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আবারও যৌথ হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী নতুন করে গোলাবারুদ মজুদ করছে এবং বোমারু ও যুদ্ধবিমানগুলো আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য ও দুজন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, প্রতিরক্ষা জোরদারে টেক্সাস থেকে ইসরায়েলে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। আগামী মাসে একটি বিমানবাহী রণতরি স্ট্রাইক গ্রুপ এবং এক দল মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে যোগ দেবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও ইরানের অবকাঠামো ও পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার দিকেই ঝুঁকছেন। গত সপ্তাহে ফ্লোরিডায় এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, আমরা হয়তো আরেকটি ছোট ‘এপিক ফিউরি’ চালাতে পারি।
মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে তাদের চলমান যুদ্ধের জন্য এই নামটি ব্যবহার করছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনও হামলা চালাবেন না বলেও তিনি জানান।
পেন্টাগন কংগ্রেসকে জানিয়েছে, ৮ মাসে গড়ানো এই যুদ্ধে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে ৪ হাজার ৭১০ কোটি (৪৭.১ বিলিয়ন) ডলার। বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনেই ব্যয়ের ৬০ শতাংশের বেশি খরচ হয়েছে।
এদিকে যুদ্ধের বিকল্প হিসেবে কাতারের মাধ্যমে শান্তি চুক্তির যে চেষ্টা চলছিল, তা ভেস্তে গেছে। এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কাতার কোনও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়নি, বরং কিছু অগ্রহণযোগ্য ধারণা উপস্থাপন করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পারমাণবিক ইস্যুতে তেহরান কোনও নমনীয়তা দেখাবে না।
হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে দেওয়া পোস্টে সতর্ক করে লিখেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইসরায়েল-প্ররোচিত যেকোনও সামরিক দুঃসাহসের আন্তর্জাতিক বাজারে বিধ্বংসী প্রভাব পড়ার বিষয়টি গ্যাস সরবরাহকারী ও ভোক্তা উভয়পক্ষের জন্যই বড় উদ্বেগের কারণ।
অন্যদিকে ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষে ৫৩টি আসনে এগিয়ে থাকা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান থেকে আসা অস্তিত্ব সংকটের হুমকি দূর করতে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করবেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটও ইরানে হামলার বিষয়টি সমর্থন করেছেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই