ঢাকাFriday , 30 October 2026
  1. অন্যান্য
  2. আবহাওয়া
  3. খেলা
  4. চাকরি
  5. জীবনযাপন
  6. তথ্যপ্রযুক্তি
  7. প্রেস রিলিজ
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মতামত
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হঠাৎ মাদ্রাসায় ঢুকে চাইলেন খাবার, না পেয়ে বাবুর্চিকে পিটিয়ে হত্যা


October 30, 2026 6:20 pm
Link Copied!


রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদ্রাসার বাবুর্চি ও তার সহকারী রান্না শেষে ছাত্রদের খাবার পরিবেশন করছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি খাবার চেয়ে না পেয়ে কাঠের গুড়ি (চলা) দিয়ে বাবুর্চি ও সহকারীকে মারধর করলে ঘটনাস্থলেই বাবুর্চি মারা যান। গুরুতর আহত হন নারী সহকারী। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টার দিকে।  

নিহত বাবুর্চির নাম ফজের আলী সরদার (৭০)। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের মৃত আহমদ আলী সরদারের ছেলে। আহত নারী সহকারী সোনা বান বিবি (৬৫) গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহির চর দৌলতদিয়া সিদ্দিক কাজী পাড়ার মৃত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।  

স্থানীয় কয়েকজন জানান, ভারতের মেদেনীপুর তরিকার আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদ্রাসার বাবুর্চি ফজের আলী শুক্রবার দুপুরে রান্না শেষে হোস্টেলের ছাত্রদের খাবার পরিবেশন করছিলেন। দুপুর সোয়া ২টার দিকে অজ্ঞাত এক মানসিক প্রতিবন্ধী বাবুর্চির কাছে গিয়ে খাবার চান। এ সময় খাবার না পেয়ে পাশেই রান্না করার কাঠের গুঁড়ি (চলা) নিয়ে অতর্কিতভাবে বাবুর্চির মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই বাবুর্চি ফজের আলীর মৃত্যু হয়। 
তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে নারী সহকর্মী সোনা বান বিবিকেও মারধর করেন। তাদের চিৎকারে মসজিদের মুসল্লিসহ আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। রক্তাক্ত জখম অবস্থায় ফজের আলী ও সোনা বান বিবিকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

এ সময় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক কৌশিক হাসান বাবুর্চিকে মৃত ঘোষণা করেন এবং গুরুতর আহত সোনা বান বিবিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আটক করে চিকিৎসার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

মাদ্রাসা পরিচালনা সংশ্লিষ্ট কমিটি আঞ্জুমান কাদরিয়ার সভাপতি মোক্তার হোসেন বেপারী বলেন, জুমার নামাজ শেষে আমরা কয়েকজন মুসল্লি মসজিদের বারান্দায় বসে কথা বলছিলাম। এ সময় চিৎকারের আওয়াজ শুনে দ্রুত দৌড়ে গিয়ে দেখি বাবুর্চির রক্তাক্ত দেহ রান্নাঘরের মেঝতে পড়ে আছেন। পাশে সহকারী সোনা বান বিবিরও রক্তাত্ব দেহ পড়ে আছে। স্থানীয় লোকজন মানসিক প্রতিবন্ধী ওই ব্যক্তিকে রশি দিয়ে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার চেষ্টা করছে। বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশকে জানানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বাবুর্চি ও নারী সহকারীকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। এ সময় চিকিৎসক বাবুর্চিকে মৃত ঘোষণা করেন এবং নারী সহকারীকে ফরিদপুর স্থানান্তর করেন।

মোক্তার হোসেন আরও বলেন, নিহত ফজের আলী সরদার আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্য হোস্টেল ব্যবস্থা চালুর পর প্রায় ৮ বছর ধরে থেকে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করছেন। তার সহকারী হিসেবে গত কয়েক বছর ধরে সোনা বান বিবিও কাজ করছেন। ঘাতক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে মানসিক প্রতিবন্ধী (পাগল) হিসেবেই আমরা জানি। এমন একটি ঘটনায় মাদ্রাসায় ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়া মাত্র লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। উত্তেজিত জনতার হাতে আটক মানসিক প্রতিবন্ধী অজ্ঞাত ব্যক্তিকে (৪৩) গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশের তত্ত্বাবধানে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আটক ব্যক্তি মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী এবং খাবার চেয়ে না পাওয়ায় বাবুর্চি ও তার সহকারীকে মারধর করেন বলে জানা গেছে।





Source link

×
📺

LIVE TV

Live Tv দেখতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।

📺 লাইভ দেখুন
error: Content is protected !!
🔴 LIVE html